‘আইপ্যাকই তৃণমূলকে শেষ করেছে, পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে তুলেছে টাকা!’ হারের পর বিস্ফোরক অনুব্রত

‘আইপ্যাকই তৃণমূলকে শেষ করেছে, পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে তুলেছে টাকা!’ হারের পর বিস্ফোরক অনুব্রত

বোলপুর: ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বীরভূমের একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। আর মুখ খুলেই দলীয় নেতৃত্ব ও ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক বোমা ফাটালেন তিনি। বোলপুরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় ‘কেষ্ট’ বলেন, “আইপ্যাক এসেছে, আর দল শেষ হয়েছে। আইপ্যাক দিয়ে দল চলে না, দল চলে সংগঠনের শক্তিতে।”

নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর কার্যত অন্তরালে চলে যাওয়া অনুব্রত এদিন আইপ্যাকের বিরুদ্ধে মারাত্মক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে নেতাদের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে এবং দলের বিভিন্ন পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে এই সংস্থা। ক্ষোভের সুরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১৯৯৮ সালে তৃণমূল গঠনের সময় তো কোনও আইপ্যাক ছিল না। ২০১১ সালে সরকার গড়া বা ২০১৯ পর্যন্ত সমস্ত সাফল্য তো আমরা নিজেদের শক্তিতেই পেয়েছি, তাহলে এখন আইপ্যাকের প্রয়োজন কেন হলো?”

বীরভূমের বাস্তব রাজনীতি ভিনরাজ্যের আইপ্যাক কর্মীরা বুঝবে না দাবি করে কেষ্ট বলেন, “তারা সংগঠন সম্পর্কে কিছুই জানে না, শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে এসেছিল। সংগঠনের গোপন তথ্যও বাইরে পাচার করেছে তারা।”

নির্বাচনে ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা:

এবারের নির্বাচনে দল তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেয়নি বলে আক্ষেপ করেন অনুব্রত। কোর কমিটির বৈঠকে তাঁকে বলা হয়েছিল, বিধায়করা ডাকলে তবেই যেতে। ফলে এবারের নির্বাচনে তিনি সেভাবে কাজই করেননি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রহস্য জিইয়ে রেখে অনুব্রতর স্পষ্ট বার্তা, “সম্মান পেলে দল করব, না পেলে নীরব থাকব।” তবে এখনই অন্য দলে যাওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি। পাশাপাশি, দলের যে সমস্ত সাংসদ ও বিধায়করা বর্তমানে ‘বেসুরো’ গাইছেন, তাঁদের সমর্থন করে অনুব্রত বলেন, “তাঁরা অন্যায় কিছু করেননি, বিজেপিতেও যাননি। নিজেদের মতো একটি ফ্রন্ট তৈরি করেছেন।” নির্বাচনের পর অনুব্রতর এই চরম বিদ্রোহী মনোভাব যে ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *