তৃণমূলে ভাঙনের মাঝেই মমতার পাশে শত্রুঘ্ন, অভিষেকের নেতৃত্ব নিয়ে উসকে দিলেন জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসে বর্তমানে একের পর এক সাংসদ ও বিধায়কদের ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে উঠে আসছে দলের প্রবীণ নেতাদের প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণের অভিযোগ। দলের অন্দরে যখন এই নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব এবং ভাঙনের তীব্র রূপ প্রকাশ্যে, ঠিক তখনই আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা দলের শীর্ষনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা জ্ঞাপন করলেন। একইসঙ্গে, দলের অন্দরের এই বিদ্রোহে তিনি যে কোনোভাবেই যুক্ত নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
নেত্রী কেবল মমতাই, অভিষেককে কড়া বার্তা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন সিনহা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তৃণমূলে তাঁর একমাত্র নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, দলে যতদিন থাকবেন তিনি অন্য কাউকে নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন না বা নির্দেশও মানবেন না। অন্যদিকে, দলের বিদ্রোহী নেতাদের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসন্তোষের কারণ হিসেবে সম্মান না পাওয়া বা পেশাগত ক্ষোভের কথা উল্লেখ করলেও, তিনি মনে করেন কল্যাণ এখনও মমতার প্রতি আস্থাশীল। তবে সায়নী ঘোষ বা ইউসুফ পাঠানদের দলত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তিনি ‘ভয়’-কে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আগে অবশ্যই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত।
বিজেপি নিয়ে নরম সুর ও সম্ভাব্য প্রভাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পাশাপাশি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্নে শত্রুঘ্নের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যোগাযোগের বিষয়টি হেসে এড়িয়ে গেলেও নিজের পুরনো দল বিজেপির প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের নেতৃত্বকে অস্বীকার করে বিরোধী শিবিরের প্রতি এই নরম সুর দলের অন্দরের গভীর ফাটলকেই প্রকাশ্যে আনছে। প্রবীণ নেতাদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং অভিষেকের নেতৃত্ব নিয়ে অনাস্থা আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ঐক্য ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।