ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে একের পর এক মার্কিন হামলা, বাড়ছে কূটনৈতিক উদ্বেগ!

ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে একের পর এক মার্কিন হামলা, বাড়ছে কূটনৈতিক উদ্বেগ!

ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড এম/টি জলবীর (M/T Jalveer) নামক জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর জাহাজটিতে থাকা ২০ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সব দেশের জাহাজের ওপর নিরপেক্ষভাবে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, বারবার নির্দেশ অমান্য করে জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহণের চেষ্টা করায় মার্কিন বিমান থেকে ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

চার দিনের মধ্যে একের পর এক হামলা

গত চার দিনের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের উপস্থিতিতে পরিচালিত জাহাজে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা। এর আগে এমটি মারিভেক্স এবং এমটি সেট্টেবেলো নামের দুটি জাহাজেও আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে এমটি সেট্টেবেলোতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে আক্রান্ত জলভির জাহাজ থেকে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে ভারতীয় দূতাবাস ও ওমানের স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সহায়তা করেছে। অবরোধ শুরুর পর থেকে সেন্টকম ৯টি জাহাজ অচল করেছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে বলে জানা গেছে।

কারণ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

গত এপ্রিল মাস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করেছে আমেরিকা, যার মূল উদ্দেশ্য ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এই অবরোধের জেরে আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও অবাধ নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই ধরনের হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে বেসামরিক অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *