এবার বাংলা, ২০ সাংসদ নিয়ে মমতার দল ছিনিয়ে নিতে চলেছেন কাকলি!

দিল্লির পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতে চরম ডামাডোল তৈরি করে এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের রাশ নিজেদের হাতে নিতে চাইছেন দলের বিদ্রোহী সাংসদরা। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে ২০ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে তাঁদের দিকে এবং তাঁরাই ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ‘আসল তৃণমূল’। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে বিদ্রোহী এই শিবির সরাসরি এনডিএ জোটে থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
নির্বাচন কমিশনের হাতেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ
কে আসল তৃণমূল, তা নির্ধারণের ভার এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙনের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। সেখানে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরকে আসল শিবসেনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল কমিশন এবং দলের প্রতীক তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছিল। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি যদি কমিশনে মান্যতা পায়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের দলের নাম ও প্রতীক হারাতে হতে পারে, যা বাংলার রাজনীতিতে এক সুদূরপ্রসারী ও অভাবনীয় প্রভাব ফেলবে।
হঠাৎ বিদ্রোহ নয়, পরিকল্পনা দু’বছরের
অনেকেই মনে করছিলেন নির্বাচনে দলের ভরাডুবির কারণেই এই বিদ্রোহ। কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদার সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয় বরং গত দু’বছর ধরেই এই পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর চার দশকের রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁরা আর এক ছাদের তলায় থাকতে রাজি নন। বিদ্রোহী এই গোষ্ঠী বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে যেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ, তেমনই দলের আরেক বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তাঁকে সরাসরি নিজেদের বিরোধী শিবির হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন কাকলিরা।