‘দলে আদেও আছেন তো সায়নী?’ মৃত্যুঞ্জয়ের পর এবার যুবনেত্রী কোথায় জানতে চেয়ে তোপ শুভ্রজিতের

‘দলে আদেও আছেন তো সায়নী?’ মৃত্যুঞ্জয়ের পর এবার যুবনেত্রী কোথায় জানতে চেয়ে তোপ শুভ্রজিতের

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ যেন থামার নামই নিচ্ছে না। এবার দলের রাজ্য যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষের ভূমিকা এবং অবস্থান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন দলেরই এক যুব নেতা। যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় পালের পর এবার সায়নীকে বিঁধে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন কলকাতার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল সভাপতি শুভ্রজিৎ হাজরা।

নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুভ্রজিৎ লেখেন, “পদ নয়, আদর্শের জন্য আজও দলের সঙ্গে আছি। শুধু জানতে চাই— যখন কর্মীরা মাঠে, তখন আমাদের রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভানেত্রী সায়নী ঘোষ কোথায়? তিনি কি আদেও দলে আছেন?”

এখানেই শেষ নয়, রাজ্য সভানেত্রীর পাশাপাশি উত্তর কলকাতার জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি শান্তিরঞ্জন কুণ্ডুর নিখোঁজ ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শুভ্রজিৎ। তাঁর প্রশ্ন, এই কঠিন সময়ে জেলা সভাপতি কি কোনো যুব কর্মীর খোঁজ নিয়েছেন বা দেখা করেছেন? দল যাতে স্পষ্ট করে জানায় যে এদের বর্তমান অবস্থান ঠিক কী।

সায়নীকে নিয়ে কেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য?

দলের অন্দরে বিদ্রোহ দেখা দিতেই সম্প্রতি সমস্ত কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে যুব সভাপতির পদে সায়নী ঘোষকেই রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনি ধরে তাঁকে সেভাবে জনসমক্ষে বা দলের কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না। এর মাঝেই দিল্লিতে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদরা যখন আলাদা ব্লক তৈরি করে বৈঠক করছিলেন, তখন প্রথম দিনের বৈঠকে সায়নী উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু হঠাৎ করেই মঙ্গলবার তাঁর দিল্লি সফর রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা উস্কে দেয়।

এর আগে যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়নীকে কটাক্ষ করে মৃত্যুঞ্জয় পাল লিখেছিলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্ট সায়নী ঘোষের বর্তমান অবস্থান কী?” যদিও সেই বিতর্কের মাঝেই সায়নী দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরে এসেছেন। কিন্তু কলকাতা ফেরার পরেও যেভাবে দলের যুব নেতারা তাঁর আনুগত্য এবং অবস্থান নিয়ে একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটাচ্ছেন, তাতে অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *