শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে তরুণীর রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় নিরাপত্তা!

শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে তরুণীর রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় নিরাপত্তা!

ত্রিপুরার আগরতলাস্থিত শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে মনীষা দাস নামে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী কলেজের প্রাক্তন মহিলা হোস্টেল কেয়ারটেকার ছিলেন এবং সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত ও পুলিশের পদক্ষেপ

গত ১০ জুন গভীর রাতে খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ, ফরেনসিক দল ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হোস্টেলের একটি ভিতর থেকে বন্ধ থাকা ঘর ভেঙে তরুণীর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে মৃত্যুর ঠিক আগেই এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে মনীষার বচসার তথ্য সামনে আসায় সন্দেহ দানা বেঁধেছে। ইতিমধ্যে ওই সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমারকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা

শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ত্রিপুরার একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হওয়ায় রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের একটি ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে এক কর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত না হলে তা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি আবাসিক ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের মানসিকতা এবং নিরাপত্তাবোধের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসনের বর্তমান তদন্ত রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *