পঞ্চায়েত অফিসে নেশায় বুঁদ প্রধান, মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার ভিডিও ভাইরাল!

বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের ঝুঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েতে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। মদ্যপ অবস্থায় পঞ্চায়েত প্রধানের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে খোদ জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সাধারণ মানুষকে হতবাক করেছে।
নাগরিক পরিষেবায় চরম বিপর্যয়
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার অন্যান্য দিনের মতোই সাধারণ মানুষ তাঁদের বিভিন্ন জরুরি কাজ নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে এসেছিলেন। কিন্তু দপ্তরে প্রবেশ করতেই তাঁদের চক্ষুচড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায়, নেশার ঘোরে বেহুঁশ হয়ে পঞ্চায়েত প্রধান রামেশ্বর হেমব্রম মেঝেতে শুয়ে রয়েছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে কোনো রকমে চেয়ারে বসার চেষ্টা করতে দেখা গেলেও, নেশার তীব্রতায় তিনি সোজা হয়ে বসতেও ব্যর্থ হন। এই ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যে দপ্তরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা, সেখানে প্রধানের এই ধরনের আচরণ প্রশাসনিক পরিষেবাকে কোন তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক বিতর্ক
একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধির এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিরোধীরা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে সরব হয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, পঞ্চায়েত অফিসগুলোকে শাসকদল নিজেদের পার্টির কার্যালয়ে পরিণত করেছে, যার ফলেই এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কার্যকলাপের সাহস পাচ্ছেন তারা। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে পঞ্চায়েত অফিসগুলিতে অবিলম্বে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জোরালো দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর সরাসরি আঘাত হানে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে।