যোগ দিবসে কলকাতায় মোদী! দেড় লাখি ভিড়ের ডেডলাইন ঘিরে ঘুম উড়েছে পুরকর্তাদের

যোগ দিবসে কলকাতায় মোদী! দেড় লাখি ভিড়ের ডেডলাইন ঘিরে ঘুম উড়েছে পুরকর্তাদের

কলকাতা: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে সেজে উঠছে তিলোত্তমা। ২১শে জুন কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এই হাইপ্রোফাইল কর্মসূচিকে ঘিরেই এখন রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পুরসভার অন্দরে তীব্র উত্তেজনা। শহরজুড়ে অন্তত দেড় লক্ষ মানুষকে এই যোগাভ্যাসে শামিল করার মেগা টার্গেট নেওয়া হয়েছে। আর এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গিয়েই এখন কালঘাম ছুটছে পুরকর্তাদের।

পুরসভা সূত্রে খবর, শুধু রেড রোড নয়, গোটা শহরজুড়েই মেগা আয়োজনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। কলকাতার প্রতিটি বরো এলাকায় ৩-৪টি করে বড় পার্ক বা খোলা জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। মোহরকুঞ্জ, রবীন্দ্র সরোবরের পাশাপাশি শহরের মোট ৫০টিরও বেশি পার্ক ও পুর-উদ্যানে ম্যাট পেতে সাধারণ মানুষের জন্য যোগাভ্যাসের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

লক্ষ্যপূরণে পুরকর্মীদের পরিবারকেও তলব!

দেড় লক্ষের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভিড় বাড়াতে ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্লাব এবং প্রাতর্ভ্রমণকারী দলগুলির সঙ্গে জোরকদমে যোগাযোগ শুরু করেছে পুরসভা। জারি করা হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকাও। এমনকি, টার্গেট পূরণ করতে পুরসভার প্রায় ২৭ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আধিকারিকদের আশা, কর্মীদের মধ্যে অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে মাঠে নামানো গেলে লক্ষ্যের অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এক পুরকর্তা আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, “সব স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, সাধারণ মানুষকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবুও শেষ পর্যন্ত দেড় লক্ষ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়ে একটা বড় সংশয় থেকেই যাচ্ছে।”

শুধু পুরসভাই নয়, মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন, কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীও কোমর বেঁধে নেমেছে। মিলেনিয়াম পার্কসহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৃথক কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা যাতে রেকর্ড গড়ে নজির সৃষ্টি করতে পারে, তার জন্য এখন সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে শহর প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *