রকেটের গতিতে বাড়বে মানি প্ল্যান্ট! জেনে নিন পরিচর্যার সঠিক পদ্ধতি

ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মন সতেজ রাখার পাশাপাশি বাস্তুশাস্ত্রের দিক থেকে মানি প্ল্যান্ট অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ইনডোর প্ল্যান্ট। অনেকেই অভিযোগ করেন, গাছটি বেঁচে থাকলেও একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর এর বৃদ্ধি থমকে যায়। মূলত সঠিক পরিচর্যার অভাবেই এভারগ্রিন এই ক্লাইম্বারের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কিছু বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে চললে কোনো অতিরিক্ত পরিশ্রম ছাড়াই এর লতা ও পাতা দ্রুত এবং সতেজভাবে বাড়ানো সম্ভব।
থমকে থাকা বৃদ্ধির কারণ ও উত্তরণের উপায়
মানি প্ল্যান্টের বৃদ্ধি আটকে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপর্যাপ্ত আলো ও অতিরিক্ত জল। ঘরের তীব্র অন্ধকার স্থানে রাখলে পাতার আকার ছোট হয়ে যায় এবং লতার মাঝের দূরত্ব বেড়ে গাছ ফাঁকা দেখাতে শুরু করে। তাই দ্রুত বৃদ্ধির জন্য একে এমন জানলার পাশে রাখা উচিত, যেখানে উজ্জ্বল পরোক্ষ আলো পৌঁছায়। অন্যদিকে, প্রতিদিন জল দেওয়ার কারণে গাছের শিকড় পচে যায় এবং বৃদ্ধি সম্পূর্ণ আটকে যায়। মাটির আর্দ্রতা বুঝে, অর্থাৎ উপরিভাগ সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পরই জল দিলে শিকড় পুষ্টি শোষণ করতে পারে। এছাড়াও টবের ভেতরে শিকড় জট পাকিয়ে ‘রুট বাউন্ড’ অবস্থা তৈরি হলে গাছ বাড়ে না, তখন পুরনো টব বদলে সামান্য বড় টবে নতুন মাটি দিয়ে গাছটি স্থানান্তর করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
সঠিক পরিবেশ ও পুষ্টির প্রভাব
ট্রপিক্যাল অঞ্চলের গাছ হওয়ায় মানি প্ল্যান্ট উষ্ণ পরিবেশ এবং স্বাভাবিক আর্দ্রতা পছন্দ করে। সরাসরি এসির হাওয়া বা কনকনে ঠান্ডায় রাখলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং বৃদ্ধি থমকে যায়। বসন্ত থেকে গ্রীষ্মকাল এর বাড়বাড়ন্তের মূল সময়। এই সময়ে প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর পরিমিত মাত্রায় তরল সার প্রয়োগ করলে গাছের অভাবনীয় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। তবে অতিরিক্ত সার প্রয়োগে শিকড় পুড়ে পাতার রং হলুদ হয়ে যেতে পারে। গাছটিকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে রাখার বদলে কাঠির সাহায্যে ওপরের দিকে ওঠার সুযোগ করে দিলে এটি বাড়তি এনার্জি পায়, যার প্রভাবে লতার দৈর্ঘ্য ও পাতার আকার বহুগুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি, গাছের বাড়তি অংশ নিয়মিত ছেঁটে দিলে তা লিকলিকে হওয়ার বদলে দ্রুত ঘন ও সতেজ হয়ে ওঠে।