নিরাপত্তা কেড়েছে সরকার, প্রাণ বাঁচাতে বন্দুক হাতে ঘুরছেন তৃণমূল সাংসদ!

দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমান তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ এখন ঘোর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, আত্মরক্ষার তাগিদে প্রকাশ্যে একটি এয়ারগান সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের এই সাংসদ। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তাঁর সামনে রাখা সেই বন্দুকটি নজরে আসে, যা রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নিরাপত্তা প্রত্যাহারের অভিযোগ
কেন এই চরম পদক্ষেপ, তার উত্তরে কীর্তি আজাদ সরাসরি বিজেপি সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে দল থেকে বের করে দেওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা সুপরিকল্পিতভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিজেপিতে থাকাকালীন তিনি ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তারক্ষী তো বটেই, বাড়ির হোমগার্ডদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আত্মরক্ষার তাগিদে তিনি এখন বন্দুক চালানোর অনুশীলনও করছেন এবং জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি গুলি চালাতেও পিছপা হবেন না।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সম্ভাব্য প্রভাব
কীর্তি আজাদের এই ঘটনা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি বৃহত্তর ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বিরোধী শিবিরের বহু নেতার নিরাপত্তায় ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষস্থানীয় তৃণমূল নেতারা আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকী, অনেককে প্রকাশ্য হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছে। কীর্তি আজাদ বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই প্রকাশ্য আশঙ্কা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নিরাপত্তার অভাব বিরোধী নেতাদের মধ্যে কতটা গভীর ভীতি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে বড়সড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।