কংগ্রেস বাংলাকে অনাথ করে চলে গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে মোদীর কণ্ঠে বাঙালি হিন্দুর অস্মিতা!

রাজ্যের প্রথম সরকারি ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের মঞ্চ থেকে বাঙালির ইতিহাস ও আত্মপরিচয়কে হাতিয়ার করে অতীতের শাসকদলগুলিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তৃতার সিংহভাগ জুড়েই উঠে আসে ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’, নোয়াখালির দাঙ্গা এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের কথা। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিগত সরকারগুলির সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদাসীনতায় বাংলার এই গৌরবময় অথচ রক্তক্ষয়ী ইতিহাস এতদিন সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই রাখা হয়েছিল।
ইতিহাস স্মরণ ও বিরোধীদের নিশানা
বক্তৃতায় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয়কেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশভাগের চরম সংকটের মুহূর্তে কংগ্রেস বাংলাকে কার্যত অনাথের মতো ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল এবং চক্রান্তকারীদের সামনে মাথা নত করেছিল। সেই সময় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও ‘হিন্দু হোমল্যান্ড মুভমেন্ট’-এর ফলেই পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্ত ব্যর্থ হয় বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। পাশাপাশি, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি জানান, সেই ক্ষত নিরাময় করে বর্তমানে রাজ্যের নতুন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার কৃষি, মৎস্যপালন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু করেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আগামী কর্মসূচি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করা এবং বাঙালি হিন্দুর সাংস্কৃতিক অস্মিতাকে জাগিয়ে তুলে জাতীয়তাবাদী আবেগকে সুসংহত করা। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ঐতিহাসিক পরিচিতির এই যুগলবন্দি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। তারকেশ্বরের সভা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় ফিরেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় মিলেনিয়াম পার্কে আয়োজিত বর্ণাঢ্য ‘যোগ কার্নিভ্যাল’ এবং রবিবার সকালে রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।