‘আমার বিরুদ্ধে FIR হলে অমিত শাহের বিরুদ্ধে কেন নয়?’ সিআইডি নোটিস দিতেই রণংদেহী অভিষেক

কলকাতা: সই জালিয়াতির মামলায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির সিআইডি। উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে নতুন একটি মামলায় শুক্রবার তাঁর কালীঘাটের শান্তিনিকেতনী বাসভবনে নোটিস দিতে যান তদন্তকারীরা। আর সিআইডি-র এই অতিসক্রিয়তা নিয়েই এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
এদিন সিআইডি যখন তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। নোটিস না পেয়ে সিআইডি দল ফিরে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “ভোটপ্রচারে বাংলায় এসে অমিত শাহ একাধিকবার বলেছিলেন, ৪ তারিখের পর উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দেব। আমার বিরুদ্ধে যদি এফআইআর হতে পারে, তবে অমিত শাহের বিরুদ্ধে কেন নয়?” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বলেছিলাম ৪ তারিখের পর ডিজে বাজবে। তখন আইনশৃঙ্খলা নির্বাচন কমিশনের আওতায় ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ছিল না। তখন কেন পদক্ষেপ করা হলো না?”
‘তদন্তে সবসময় সহযোগিতা করেছি, লুকানোর কিছু নেই’
তদন্ত এড়ানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিষেক জানান, তিনি সবরকম সহযোগিতা করছেন। তাঁর কথায়, “গতকালই সিআইডি অফিসে গিয়ে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরা ফেস করেছি। আগামী ১৪ তারিখও আমাকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আমি দিল্লিতেও কখনও তদন্ত এড়াইনি। ৮ থেকে ১০ বার কেন্দ্রীয় সংস্থার মুখোমুখি হয়েছি। আমি পালাব না।”
জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ক্ষোভ:
সিআইডি-র নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সাংসদের বিস্ফোরক দাবি, ভবানী ভবনে তাঁর জেরার আধ ঘণ্টার মধ্যেই ভেতরের সমস্ত প্রশ্নোত্তর সংবাদমাধ্যমে কীভাবে চলে গেল? এর অর্থ তদন্তকারী সংস্থাই তথ্য ফাঁস করছে। আগামী দিনে সংবাদমাধ্যম ভুল তথ্য সম্প্রচার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। ছাব্বিশের নির্বাচন মেটার পর রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হতেই যেভাবে একের পর এক মামলায় তাঁকে জড়ানো হচ্ছে, তাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাবি করেছেন অভিষেক।