আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হলে অমিত শাহের বিরুদ্ধে নয় কেন? সিআইডি নোটিসের জবাবে গর্জে উঠলেন অভিষেক

বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় ম্যারাথন জেরার পরদিনই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হলো সিআইডি। এবার নির্বাচনী জনসভায় ‘ডিজে’ বাজানো সংক্রান্ত মন্তব্যে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলা রুজু করে তাঁকে নোটিস দিতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এই নোটিসের প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর সপাট প্রশ্ন, “আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হলে অমিত শাহের বিরুদ্ধে কেন নয়?”
বাড়িতে সিআইডি হানা ও অভিষেকের প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার সাড়ে ৪টে নাগাদ যখন সিআইডির দল দক্ষিণ কলকাতায় অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। অভিষেক জানান, খবর পেয়ে তিনি সচিবের মাধ্যমে সিআইডি প্রতিনিধিদের অনুরোধ করেছিলেন তিনি সশরীরে না থাকলে তাঁর প্রতিনিধির হাতে নোটিস দিতে, অথবা তাঁর ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন সিআইডি প্রতিনিধিরা চলে গিয়েছেন।
এই নতুন মামলার প্রেক্ষিতেই অভিষেক মনে করিয়ে দেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় অমিত শাহ একাধিকবার বলেছিলেন, ‘ভোটের দিন অশান্তি করলে ৪ তারিখের পর উল্টো করে ঝুলিয়ে মারব’। অভিষেকের প্রশ্ন, “সরকার পাল্টেছে বলে বিভিন্ন মামলায় আমাকে জড়ানো হচ্ছে। আমি নির্বাচন চলাকালীন বলেছিলাম ৪ তারিখের পর ডিজে বাজবে। তখন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ছিল নির্বাচন কমিশনের অধীনে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ছিল না। তাহলে তখন কেন এফআইআর হলো না? আসলে আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হলে অমিত শাহের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হতো। আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হলে অমিত শাহের বিরুদ্ধে নয় কেন?”
তদন্তে সহযোগিতা ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি করেন, তিনি কোনওদিনই তদন্ত এড়িয়ে যাননি এবং সবসময় সহযোগিতা করেছেন। বৃহস্পতিবারই তিনি নির্ধারিত সময়ের আগে ভবানী ভবনে গিয়ে সাড়ে ৫ ঘণ্টা সিআইডি-র জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন। আগামী ১৪ জুন রবিবার তাঁকে আবারও তলব করা হয়েছে এবং তিনি সেখানে যাবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দিল্লিতেও তদন্ত এড়াইনি। সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছি। এ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছি।”
তবে সিআইডি-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভবানী ভবনে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তু ও প্রশ্নগুলি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। বাড়ি ফেরার আধ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তকারীরা তাঁকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কী প্রশ্ন করেছিলেন তা টিভিতে দেখানো শুরু হয়ে যায়। এই ধরণের বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে আগামী দিনে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।