আলিপুরে পুড়ে ছাই ৪০০০ ইভিএম, আগুন কি ‘সন্দেহজনক’? তদন্তে নামল কলকাতা পুলিশের সিট

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই তিলোত্তমায় এক মহানাটকীয় ঘটনা। আলিপুরের সরকারি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৪ হাজার ইভিএম (EVM)। আর এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। আগুন লাগার নেপথ্যে বড় কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবার বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করল কলকাতা পুলিশ।
শুক্রবারই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এরপরই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করে লালবাজার। সিটের এই তদন্তকারী দলে রয়েছেন সাউথ ডিভিশনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুখেন্দু মুখোপাধ্যায়, গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হীরক দলপতি, অর্পণ দাস এবং আলিপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর সুমন ঘোষ।
আগুন নিয়ে তীব্র সন্দেহ দমকল প্রতিমন্ত্রীর!
রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’। মন্ত্রী জানান, সরকারি ওই আবাসনটির ৯ এবং ১০ তলায় নির্বাচন সংক্রান্ত অফিস ছিল। সেখানেই মজুত ছিল ভোটগ্রহণের সমস্ত সরঞ্জাম ও মেশিন। আগুনে ১০টি কেন্দ্রের প্রায় ৪ হাজার ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।
তদন্তে কী কী খতিয়ে দেখবে সিট (SIT)?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই বহুতলের ঠিক কোন জায়গা থেকে আগুনের উৎস এবং কীভাবে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সে সময় ডিউটিতে থাকা কর্মী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, আলিপুরের ওই বহুতলে শুধু নির্বাচন অফিসই নয়, সর্বশিক্ষা মিশন, মিড-ডে মিল এবং হর্টিকালচার ডিপার্টমেন্টেরও দপ্তর রয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ততক্ষণে পুড়ে খাক হয়ে যায় বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরকারি সম্পত্তি। রাজ্যে সবেমাত্র নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আর তার মধ্যেই ইভিএম পুড়ে যাওয়ার এই ঘটনায় এখন চরম রাজনৈতিক পারদ চড়েছে বাংলায়। সিটের তদন্তে কী সত্য সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।