সাতসকালে ‘অ্যাকশন মোডে’ ইডি, মদনের বাড়িসহ ৬-৭ জায়গায় তল্লাশি

সাতসকালে ‘অ্যাকশন মোডে’ ইডি, মদনের বাড়িসহ ৬-৭ জায়গায় তল্লাশি

শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা ও তার আশপাশের অন্তত ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এবারের অভিযানের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন কামারহাটির হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। সকাল ৬টা থেকে তাঁর ভবানীপুর, কালীঘাট, জোকা ও দক্ষিণেশ্বরের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

একাধিক সূত্রের খবর, বিধায়ক বর্তমানে তাঁর ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে সপরিবারে উপস্থিত রয়েছেন এবং সেখানেই তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মদন মিত্রের বাড়ি ছাড়াও বেলেঘাটা, সন্তোষপুরের একটি ক্লাব এবং বেহালার একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা-সহ শহরের মোট ৭ থেকে ৮টি জায়গায় এই মুহূর্তে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।

তদন্তের সূত্র ও নেপথ্য কারণ

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার হওয়া প্রোমোটার অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশাল অভিযান চালানো হচ্ছে। অয়ন শীলের ওএমআর শিট মূল্যায়নকারী সংস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের একাধিক পুরসভার নিয়োগে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই কেলেঙ্কারির তালিকায় থাকা ৭টি পুরসভার অন্যতম হলো কামারহাটি পুরসভা, যার বিধায়ক মদন মিত্র। গ্রুপ-ডি এবং টাইপিস্ট-সহ বিভিন্ন নিচু তলার পদে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া ও ওএমআর শিট ছাপানোর নামে যে বিপুল অঙ্কের বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, তার সঙ্গে বিধায়কের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই ইডির মূল লক্ষ্য। এর আগে কামারহাটি পুরসভার এক পদস্থ আধিকারিকের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছিলেন তদন্তকারীরা।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব

পুরনিয়োগ মামলায় মদন মিত্রের মতো একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাড়িতে এই সাতসকালের হানা রাজ্যের শাসক দলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে কামারহাটি পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যদি কোনো প্রভাবশালী যোগসূত্রের অকাট্য প্রমাণ মেলে, তবে তা পুরপ্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে। একই সঙ্গে, লোকসভা নির্বাচনের পর এবং ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই ঝোড়ো ‘অ্যাকশন’ রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী কয়েক ঘণ্টার তল্লাশিতে কী কী তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *