সুপার এল নিনোর চোখরাঙানি! বর্ষার শুরুতেই ভারতে খরার জোরালো শঙ্কা

সুপার এল নিনোর চোখরাঙানি! বর্ষার শুরুতেই ভারতে খরার জোরালো শঙ্কা

বর্ষার মরশুমের শুরুতেই দেশের জন্য বড়সড় আশঙ্কার বার্তা দিল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং আগামী মাসগুলিতে এটি আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে উঠবে বলে আবহাওয়াবিদরা নিশ্চিত করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণায়নের পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলও এর সঙ্গে সমান্তরালভাবে সাড়া দেওয়ায় সমগ্র সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে এল নিনোর গ্রাসে চলে গিয়েছে।

এল নিনোর কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’-এর গত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের গরম জল ক্রমশ উপরে উঠে আসায় এল নিনো আরও জোরালো হচ্ছে। ভারতের জলবায়ুর ইতিহাসে এল নিনোর প্রভাব বেশ নেতিবাচক। এই পরিস্থিতি সক্রিয় থাকলে বর্ষায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়, যার ফলে দেশে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং ভয়াবহ খরার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।

আশার আলো দেখাচ্ছে ‘পজিটিভ আইওডি’

ভারতের বর্ষা কেবল এল নিনোর ওপর নির্ভরশীল নয়, অন্যান্য আঞ্চলিক উপাদানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি পরিস্থিতি ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থায় রয়েছে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো ভূমিকা নেবে না। তবে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার (JMA) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস নাগাদ ভারত মহাসাগরে একটি ‘পজিটিভ আইওডি’ তৈরি হতে পারে। এমনটা ঘটলে ভারত মহাসাগরের এই ইতিবাচক প্রভাব প্রশান্ত মহাসাগরের সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর ক্ষতিকর দিকটিকে অনেকটাই প্রতিহত করতে সক্ষম হবে এবং দেশ বড়সড় বৃষ্টির ঘাটতি বা খরার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *