রাস্তা কারোর বাপের সম্পত্তি নয়, ফুটপাত জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে রণংদেহী মুখ্যমন্ত্রী

বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর কলকাতার রাজপথ ও ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করতে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নবান্ন। ফুটপাত সংস্কৃতির জট কাটাতে এবং জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের স্বার্থের জন্য আমজনতার সুবিধা বলি দেওয়া হবে না। নিউ মার্কেট, রাজাবাজার, খিদিরপুর কিংবা মেটিয়াবুরুজের মতো কলকাতার একাধিক ঘিঞ্জি ও দখল হয়ে যাওয়া এলাকার নাম উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন জমানায় কোনও বিশেষ এলাকাকে আইন শৃঙ্খলার বাইরে ছাড় দেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর কলকাতার বাম দলগুলি হকারদের জীবিকার অনিশ্চয়তার প্রশ্ন তুলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছে। তবে এই বিরোধিতাকে আমল না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকার কেবল সাধারণ জনগণের রয়েছে এবং আইন বা জনগণ কাউকে সেই ফুটপাত দিয়ে দেওয়ার অধিকার সরকারকে দেয়নি। জনগণের স্বার্থই এই সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
কড়া বার্তার নেপথ্যে কারণ
দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার বুক চিরে চলা বেআইনি জটলা, সিন্ডিকেট রাজ এবং ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ রুদ্ধ করার সংস্কৃতিকে বন্ধ করতেই নবান্ন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে যানজট ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
পুনর্বাসন ও সম্ভাব্য প্রভাব
কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণও বজায় রেখেছে নতুন সরকার। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের রুটি-রুজির কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের ফাঁকা জমি বা অচল মার্কেটগুলোতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে তার আগে জবরদখলকারীদের প্রাথমিক ভাবে সরে যেতে হবে। আন্দোলন বা জোরজুলুমের পথ পরিহার করলে উপযুক্ত হকারদের জন্য ভারত সরকারের শ্রম দফতরের নির্দিষ্ট স্কিমের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বড় ঘোষণাও করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থানের পর কলকাতা পুরসভা এবং লালবাজার যৌথভাবে শহরের বড় বড় রাস্তা ও ফুটপাত খালি করার মেগা অভিযানে নামতে চলেছে। প্রশাসনিক এই তৎপরতার ফলে একদিকে যেমন কলকাতার রাজপথ দীর্ঘ বছর পর জবরদখল মুক্ত হয়ে হৃত গৌরব ফিরে পেতে পারে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্কিমের সঠিক প্রয়োগে হকারদের স্থায়ী ও বৈধ অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক নতুন রূপরেখা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।