রণবীর সিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক কঙ্গনা, বলিউডকে বিঁধলেন তীব্র অভিযোগে

হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের ভেতরের রাজনীতি ও স্বজনপোষণ নিয়ে বরাবরই সোচ্চার অভিনেত্রী ও বর্তমান সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। এবার ‘ডন ৩’ বিতর্ক এবং ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ-এর ‘অসহযোগিতার নির্দেশিকা’ জারির পর বলিউড তারকা রণবীর সিংকে কোণঠাসা করার অভিযোগে সরব হলেন তিনি। রণবীরের এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতা ও সিনেসংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কঙ্গনা।
রণবীর সিং একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দেওয়া সত্ত্বেও কেন বারবার ইন্ডাস্ট্রির একাংশের নিশানায় পড়ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা সরাসরি আঙুল তুলেছেন বলিউডের একটি নির্দিষ্ট প্রচারধারার দিকে। তাঁর মতে, রণবীরের সাম্প্রতিক সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এ প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা অনেকেরই পছন্দ হয়নি।
পাকপ্রেম ও ধুরন্ধর বিতর্ক
কঙ্গনা রানাউত অভিযোগ করেছেন যে, বলিউডের একটি বড় অংশের মধ্যে এক ধরনের সুপ্ত ‘পাকিস্তান প্রেম’ কাজ করে। বছরের পর বছর ধরে নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্রে প্রতিবেশী দেশের প্রতি বিশেষ সহানুভূতি বা ভালোবাসা উজাড় করে দেওয়া হয়েছে এবং দর্শকরাও পর্দায় সেটি দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। কিন্তু রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি এই চেনা ছকের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তব তুলে ধরেছে।
কঙ্গনার দাবি, যখনই কোনো সিনেমায় অন্য এক সত্য বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়, তখনই ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। কারণ এর ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রচার করা ন্যারেটিভ বা চিন্তাধারা প্রশ্নের মুখে পড়ে। আর এই কারণেই রণবীর সিংকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে এবং কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।
সাফল্যের পথ ও কোণঠাসা করার সংস্কৃতি
রণবীর সিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতিকে নিজের অতীতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করেছেন কঙ্গনা। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে তাঁকেও একইভাবে বলিউডের একাংশ একঘরে ও ব্যান করার চেষ্টা করেছিল। কঙ্গনার মতে, ক্যারিয়ারে সাফল্য, মর্যাদা ও প্রতিপত্তি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
রণবীরকে নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, সাফল্যের পথে এমন অনেক প্রতিকূলতা আসবে, তবে তাতে দমে যাওয়া উচিত নয়। পথ সবসময় মসৃণ হবে না, কিন্তু নিজের লড়াই জারি রাখলে দিনশেষে সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। এই বিতর্কের নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং ভিন্ন মতাদর্শের প্রতি অসহিষ্ণুতাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন এই অভিনেত্রী।