কমেডির নামে নারীদের চরম অবমাননা! প্রণীত মোরের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন ফড়ণবিস

বিতর্কের কেন্দ্রে ‘দ্য অশ্লীল শো’
স্ট্যান্ড-আপ কমেডির নামে সস্তা বিনোদন ও অশালীনতার চর্চা নিয়ে আবারও তোলপাড় সমাজমাধ্যম। প্রণীত মোরের অনুষ্ঠান ‘দ্য অশ্লীল শো’-তে মহিলাদের সম্মানহানি এবং অশালীন যৌনগন্ধী মন্তব্যের জেরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে হিমাংশু জাংরা নামের এক তরুণ মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও ডেটিং সংস্কৃতিকে চরম কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, অনেক মহিলাই নাকি ৩৭০ টাকার এক প্লেট বিরিয়ানির বিনিময়ে পুরুষদের সঙ্গে রাত কাটান। এমনকি, বিরিয়ানির টাকা উসুল করতে এক মহিলাকে অন্ধকার পার্কে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্থার কথাও তিনি রসিকতার ছলে তুলে ধরেন। পাশাপাশি, এই একই শোয়ের অন্য একটি ভিডিওতে জনৈক তরুণী চিকিৎসককে মৃত পুরুষের গোপনাঙ্গ নিয়ে কুরুচিকর মশকরা করতে দেখা যায়। এই ধরনের অবমাননাকর বিষয়বস্তু সম্প্রচারের কারণেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
কড়া আইনি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কমেডির মোড়কে এহেন কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে শেষপর্যন্ত আইনি গেরোয় পড়েছেন প্রণীত মোরে এবং তাঁর সঙ্গীরা। মহারাষ্ট্র সাইবার ক্রাইম পুলিশের পক্ষ থেকে প্রণীত মোরে, হিমাংশু জাংরা এবং ডঃ সেজল পাওয়ার-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই রুচিহীন সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে দেবেন্দ্র ফড়ণবিস স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিনোদনের নামে শালীনতার মাত্রা ছাড়ানো এবং সামাজিক সীমারেখা লঙ্ঘন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্ট্যান্ড-আপ কমেডিতে ন্যূনতম শালীনতাবোধ বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো-গুলির বিষয়বস্তু নির্বাচনে আয়োজকদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা বিনোদন জগতে যথেচ্ছাচার কমিয়ে একটি সুস্থ সংস্কৃতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।