তৃণমূলের অন্দরে এবার আইনি লড়াই, মমতা সহ একাধিক TMC শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি কাকলি-পুত্রের!

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহদাহ এবার সরাসরি আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চলেছে। বারাসাতের বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ ডক্টর কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিকিৎসক পুত্র ডক্টর বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের একাধিক প্রথম সারির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি নোটিশ পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মমতা থেকে মহুয়া, নোটিসের তালিকায় পাঁচ হেভিওয়েট
বৈদ্যনাথবাবুর আইনজীবী পূজা শুক্লা ইতিমধ্যেই এই হাইপ্রোফাইল আইনি নোটিশটি প্রস্তুত করেছেন, যাতে বৈদ্যনাথবাবু নিজেও স্বাক্ষর করেছেন। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই নোটিশটি পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়, প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণনগরের নেত্রী মহুয়া মৈত্র এবং তৃণমূলত্যাগী তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোনালী গুহর কাছে। নিজের দলেরই সর্বোচ্চ নেত্রী এবং প্রথম সারির সাংসদদের বিরুদ্ধে একজন সাংসদ পুত্রের এই চরম পদক্ষেপের জেরে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
‘বারাসাতের টিকিট আমি কোনও দিনই চাইনি’
এই গোটা ঘটনার সূত্রপাত দলীয় অন্দরের কিছু বিস্ফোরক দাবি এবং কুৎসা ছড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ডক্টর বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তিনি নাকি বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ার জন্য তৃণমূলের কাছে বিধায়ক পদের টিকিট চেয়েছিলেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য। তিনি কোনও দিনই বারাসাতের টিকিট চাননি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর নামে এই ধরণের মনগড়া রটনা করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই চিকিৎসক।
মদ্যপানের আপত্তিকর অভিযোগ, সোনালী গুহকে কড়া হুঁশিয়ারি
টিকিট পাওয়ার জল্পনার পাশাপাশি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোনালী গুহর করা এক অত্যন্ত বিতর্কিত ও ব্যক্তিগত আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বৈদ্যনাথবাবু। সোনালী গুহ দাবি করেছিলেন যে, বৈদ্যনাথবাবু, তাঁর ভাই এবং তাঁদের মা কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিয়মিত মদ্যপান করেন। এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্মানহানির চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
এই ধরণের মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈদ্যনাথবাবু তাঁর আইনি নোটিশে সাফ জানিয়েছেন:
- প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে: অভিযুক্ত নেতাদের অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে থেকে নিজেদের বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
- মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি: যদি এই আইনি নোটিশ পাওয়ার পর তাঁরা উপযুক্ত পদক্ষেপ বা ক্ষমা না চান, তবে তিনি আদালতের পথে হেঁটে মানহানির মামলা সহ সমস্ত রকমের কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।