তৃণমূলে নাটক অব্যাহত! একঝটকায় অপসারিত সুদীপ ও সায়নী, উত্তর কলকাতার রাশ এখন কুণালের হাতে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত নাটকীয় রদবদল, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দিল্লির বুকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে এক মস্ত বড় কোপ বসাল। একযোগে দলের উত্তর কলকাতার সভাপতি এবং রাজ্য যুব সভাপতির মতো হেভিওয়েট পদ পরিবর্তনের ফলে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে এক বিরাট কম্পন সৃষ্টি হয়েছে।
বিজেপি মন্ত্রীর বাড়িতে সুদীপ-শতাব্দী! উত্তর কলকাতার ব্যাটন কুণাল ঘোষের হাতে
শনিবার দিল্লির বুকে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তৃণমূল নেতৃত্বকে। বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়কে দিল্লির বুকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এই খবর চাউর হতেই চরম ক্ষোভ ও অস্বস্তিতে পড়ে ঘাসফুল শিবির।
বিজেপি নেতার বাড়িতে সুদীপ ও শতাব্দীর এই ঝটিকা সফরকে একেবারেই ভালো চোখে দেখেনি কালীঘাট। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকে একঝাটকায় সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইপ্রোফাইল পদের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত তথা প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষের হাতে।
যুব সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সরলেন সায়নী, নতুন দায়িত্ব পেলেন অর্ণব
দিল্লির এই রুদ্ধদ্বার সাক্ষাতের জল্পনার মাঝেই তৃণমূলের যুব সংগঠনেও এক নাটকীয় রদবদল করা হয়েছে। দলের রাজ্য যুব সভাপতির পদ থেকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তারকা নেত্রী সায়নী ঘোষকে। সায়নী ঘোষকে যুব সংগঠনের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার পর সেই জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এখন থেকে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ই রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নতুন সভাপতির গুরুদায়িত্ব সামলাবেন।
‘সম্মান নিয়ে থাকা যাবে না’, এবার দল ছাড়লেন প্রবীণ নেতা মানস ভূঁইয়া
দলের এই মহানাটকীয় রদবদল ও ডামাডোলের আবহেই তৃণমূল শিবিরে লাগল আরও একটি বড় ধাক্কা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রবীণ নেতা মানস ভূঁইয়া। চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়ে তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
দল ছাড়ার পর নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মানসবাবু বলেন:
- আদর্শের রাজনীতি: “আমি আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি। বর্তমানে যা হচ্ছে, তাতে এই দলে আর থাকা যাবে না।”
- সম্মানহানির অভিযোগ: “আমার নিজস্ব একটা সম্মান আছে। আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম মানুষের সেবা করতে। কিন্তু দলটার ভেতর থেকে এখন যা সব বেরিয়ে আসছে, তাতে আমি আর প্রাথমিক সদস্য পদে থাকতে পারছি না।”