তৃণমূলে জোড়া ধাক্কা! দল ছাড়লেন মানস, অপসারিত সায়নী, উত্তর কলকাতার দায়িত্বে কুণাল

একদিকে শীর্ষ নেতাদের দলত্যাগ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলাতে সংগঠনে ব্যাপক রদবদল। সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রবীণ নেতা মানস ভূঁইয়ার আচমকা ইস্তফা এবং যুব সভানেত্রীর পদ থেকে সায়নী ঘোষের অপসারণ রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে বড়সড় ধাক্কার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তড়িঘড়ি একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে।
আদর্শের সংঘাতে মানসের পদত্যাগ ও যুব সংগঠনে কোপ
দলের ভেতরে মাথাচাড়া দেওয়া দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির অভিযোগকেই দলত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভূঁইয়া। শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের সম্মান ও আদর্শ বজায় রেখে দলে থাকা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। প্রবীণ এই নেতার দলত্যাগের রেশ কাটার আগেই দলের যুব সংগঠনে বড় রদবদল আনে তৃণমূল। সায়নী ঘোষকে যুব সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অর্ণব ব্যানার্জির হাতে। দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং যুব সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুদীপের ডানা ছেঁটে উত্তর কলকাতায় কুণাল
দলের অন্দরের বিদ্রোহ দমন এবং সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে জেলা ও জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করেছে তৃণমূল। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনটি হয়েছে উত্তর কলকাতায়। দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ভেঙে এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কোর কমিটি বাতিল করে উত্তর কলকাতার নতুন সভাপতি হিসেবে কুণাল ঘোষকে একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের আবহে সুদীপের প্রভাব খর্ব করতেই এই কৌশল নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
পাশাপাশি সর্বভারতীয় স্তরে রণকৌশল নির্ধারণের জন্য দলের জাতীয় কর্মসমিতিতে যুক্ত করা হয়েছে প্রবীণ নেতা সৌগত রায় এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। লোকসভা দলের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন সৌগত রায়। দলের এই ব্যাপক সাংগঠনিক ওলটপালট মূলত ড্যামেজ কন্ট্রোল এবং ক্ষোভ প্রশমনের এক মরিয়া চেষ্টা। তবে এই রদবদলের ফলে দলের ভেতরের চোরাস্রোত কতটা শান্ত হয়, নাকি নতুন করে কোনো অসন্তোষের জন্ম দেয়, তার উপরই নির্ভর করছে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক স্থায়িত্ব।