বিনিয়োগের খরা কাটাতে বাংলায় এবার ঐতিহাসিক শিল্প সংস্কার!

বিনিয়োগের খরা কাটাতে বাংলায় এবার ঐতিহাসিক শিল্প সংস্কার!

বাংলায় শিল্প ও নতুন বিনিয়োগের চাকা ঘোরাতে এক সাহসী ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ বা বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বিশ্বমানের শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।

জমির জট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা মুক্তির বার্তা

রাজ্যে বড় বিনিয়োগের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে এবার জেলা ও পঞ্চায়েত স্তরের আলাদা অনুমোদন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে চালু হচ্ছে রাজ্য স্তরের একক-জানালা বা ‘সিঙ্গল-উইন্ডো’ ব্যবস্থা। ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এখন থেকে সরাসরি রাজ্য স্তরে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।

সবচেয়ে বড় চমক এসেছে জমি নীতিতে। বিগত দেড় দশক ধরে বাংলায় বড় শিল্পের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা ছিল ‘আর্বান ল্যান্ড সিলিং আইন’। ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এই বাজেটেই আইনটি পুনরায় পর্যালোচনা করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সরকারি সংস্থার হাতে পড়ে থাকা অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করে একটি সামগ্রিক ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ গড়ে তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা শিল্প তালুকের জমি ফিরিয়ে নিয়ে তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিচালিত ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

তোলাবাজি বন্ধে কড়া আইন ও ২৪ ঘণ্টা ব্যবসার সুযোগ

শিল্প ও বাণিজ্যের পরিবেশ মসৃণ করতে বিনিয়োগকারীদের প্রধান ভীতি তথা ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং বেআইনি অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আইনানুগ ব্যবসাকে তোলাবাজি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কড়া নতুন আইন আনা হচ্ছে, যেখানে অপরাধীর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপ ব্যবসায়ী মহলে আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক গতি বাড়াতে কলকাতা ও বড় শহরগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে দোকান, রেস্তোরাঁ ও অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার আইনি অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও স্টার্ট-আপে জোর, পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে সিএসই

প্রথাগত শিল্পের বাইরে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের জন্য আধুনিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১০০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং ৫০ কোটি টাকার ‘ট্যালেন্ট অ্যাট্রাকশন ফান্ড’ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলায় উন্নত প্রযুক্তির স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পূর্ব ভারতে মূলধন জোগাড়ের পথ সহজ করতে ১১৮ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিনের নীতিগত জড়তা ভেঙে নেওয়া এই অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে আগামী দিনে বাংলায় বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বিনিয়োগের জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *