মেসিকাণ্ডে ফের থানার চৌকাঠে অরূপ বিশ্বাস, জুতোর মালা হাতে বাইরে তুমুল বিক্ষোভ!

মেসিকাণ্ডে ফের থানার চৌকাঠে অরূপ বিশ্বাস, জুতোর মালা হাতে বাইরে তুমুল বিক্ষোভ!

মেসি ইভেন্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করে তদন্তের জাল ক্রমেই গুটিয়ে আনছে পুলিশ। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার দ্বিতীয়বারের মতো বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত ১৮ জুন প্রথম দফায় তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁর জবাবে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারেননি তদন্তকারীরা। ফলে সোমবার তাঁকে পুনরায় তলব করা হয়। এ দিন প্রাক্তন মন্ত্রী থানায় পৌঁছাতেই বাইরে জুতোর মালা হাতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। তবে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অভিযোগের সূত্রপাত ও আইনি টানাপোড়েন

কলকাতায় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত। গত ১৭ মে অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। সেখানে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে টিকিটের কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, জালিয়াতি, ভয় দেখানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির মতো গুরুতর অভিযোগ এনে একাধিক ধারায় মামলা করা হয়। এর ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে প্রথম দিকে অরূপ বিশ্বাস অসুস্থতার অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে বারাসাত আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হলেও কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেয়, যেখানে আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর গ্রেফতারির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে তদন্ত স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।

তদন্তের গভীরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

আইনি সুরক্ষাকবচ থাকলেও তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কোনো ছাড় দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। প্রথম দিনের সাড়ে তিন ঘণ্টার জেরায় পাওয়া তথ্যের অসঙ্গতি মেটাতেই মূলত এই দ্বিতীয় দফার তলব বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার কারণ হিসেবে যেমন আয়োজকদের অভিযোগ ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়গুলো সামনে আসছে, তেমনই এর একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। থানার বাইরে আমজনতার জুতোর মালা নিয়ে বিক্ষোভ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এই হাইপ্রোফাইল মামলাটিকে ঘিরে জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদঘাটিত না হলে ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাবে, যা আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট মহলের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *