বাংলায় প্রথম জেলা পরিষদ দখল বিজেপির, শুভেন্দুর গড়ে ঐতিহাসিক জয়!
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনও জেলা পরিষদের ক্ষমতা দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের গড় পূর্ব মেদিনীপুরেই প্রথমবার বোর্ড গঠন করে গেরুয়া শিবির এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল। সোমবার এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর সমাজমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নবনির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ এবার থেকে বিজেপির সদস্যদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
বোর্ডের নয়া নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে দ্রুত বদল আসছিল। জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতির পদত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ক্ষমতা দখলের জল্পনা তৈরি হয়। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে শ্রী বামদেব গুছাইতকে সভাধিপতি এবং শ্রীমতী বাঁসুরি পণ্ডিতকে সহকারী সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় এই নয়া নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁদের জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির হাত ধরে জেলার সার্বিক অগ্রগতি আরও গতিশীল হবে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এবং সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরের এই পটপরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৮ সালে তৎকালীন বাম জমানায় এই জেলাতেই প্রথমবার জেলা পরিষদ দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস, যা পরবর্তীকালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি বড় ইঙ্গিত ছিল। এবার ঠিক একইভাবে বিজেপিও নিজেদের খাতা খুলল এই জেলা পরিষদেই। অন্যদিকে, সম্প্রতি মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভা ভেঙে দিয়ে প্রশাসনিক রাশ রাজ্য সরকার নিযুক্ত প্রশাসকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলায় বিজেপির এই ক্ষমতা দখল গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের স্বাভাবিকভাবেই উজ্জীবিত করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জয় আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি ও প্রভাব বিস্তারে অনুঘটকের কাজ করবে।