উত্তরবঙ্গের মন জয়ে কল্পতরু নতুন সরকার! প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে ঢালাও উপহার

উত্তরবঙ্গের মন জয়ে কল্পতরু নতুন সরকার! প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে ঢালাও উপহার

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির ওপর উত্তরবঙ্গবাসীর টানা ভরসার এক প্রকার ‘রিটার্ন গিফট’ প্রকাশ পেল এই বাজেটে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উত্তরবঙ্গে পা রেখেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে উত্তরের ঋণ শোধ করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মিলিয়েই এবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন থেকে শুরু করে চা শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নে ঢালাও বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় আমূল বদল

উত্তরের চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার মান উন্নত করতে এই বাজেটে দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি (IIT) ও একটি আইআইএম (IIM) স্থাপনের পাশাপাশি এইমস (AIIMS) এবং ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন তিনটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে শিলিগুড়িতে মেট্রো পরিষেবার সম্ভাব্যতা যাচাই, নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং কোচবিহার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষার স্বার্থে হাসিমারা এয়ার বেসের জন্য ২৫ একর জমি বরাদ্দ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও একটি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

চা বাগানের সুরক্ষায় নয়া নীতি ও বিশ্বমানের পর্যটন

এবারের বাজেটে চা শিল্পের ঐতিহ্য রক্ষা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ২০২৪ সালের নীতি বদলে চা বাগানের জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারের ঊর্ধ্বসীমা ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং চা-বাগান এলাকার ঐতিহ্য রক্ষা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ‘পিএম চা শ্রমিক যোজনা’ চালু হচ্ছে। অন্যদিকে, পর্যটনকে বিশ্বমানের করতে দার্জিলিংকে ইকো-অ্যাডভেঞ্চার ও হেরিটেজ হাব হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। ট্রেকিং, প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রসার এবং পুরনো চা বাংলোর হেরিটেজ ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং করা হবে। পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের মতে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণের যে দায়ভার এই সরকারের কাঁধে রয়েছে, তা বাস্তবায়নের পথে এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *