দার্জিলিংয়ে প্যারাগ্লাইডিং, ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি! রাজ্যের পর্যটনে বিরাট চমক

দার্জিলিংয়ে প্যারাগ্লাইডিং, ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি! রাজ্যের পর্যটনে বিরাট চমক

কলকাতা: পরিবর্তনের রাজ্যে কেমন হবে বাঙালির পর্যটন এবং দুর্গোৎসব? সোমবার রাজ্য সরকারের পেশ করা প্রথম বাজেটেই তার স্পষ্ট রূপরেখা মিলেছে। রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজাতে এবং বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে একগুচ্ছ বড়সড় চমক দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পর্যটনের আলাদা ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি পাহাড়, জঙ্গল এবং সুন্দরবনের জন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক অভিনব উদ্যোগ।

রাজ্য বাজেটে পর্যটন ক্ষেত্রের মূল আকর্ষণগুলি হলো:

  • পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম: উত্তরের দার্জিলিংকে ঐতিহ্যবাহী ইকো-অ্যাডভেঞ্চার হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটকদের জন্য থাকছে ট্রেকিং, হাইকিং, র‍্যাফটিং এবং প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর ব্যবস্থা। ডুয়ার্সকেও নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি: জঙ্গলমহলের পর্যটনে জোয়ার আনতে ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় ১৬০ একর জমির ওপর তৈরি হবে ‘টাইগার সাফারি’। এর জন্য বাজেটে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
  • সুন্দরবনে ভাসমান গ্ল্যাম্পিং: ম্যানগ্রোভের টানে আসা পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে ইকো-রিসোর্ট, বিশেষ পর্যটন জেটি, ভাসমান গ্ল্যাম্পিং (Floating Glamping) এবং পরিবেশবান্ধব ই-ভেসেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
  • দুর্গাপুজোর গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং: ‘দুর্গাপুজো এক বিশ্বজনীন উৎসব, বাংলার চিরন্তন আবেগ’— এই সুরকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডিং প্রচার চালানো হবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পর্যটন সার্কিট এবং ডিজিটাল গাইডের ব্যবস্থা থাকবে।
  • হেরিটেজ ও স্পিরিচুয়াল ট্যুরিজম: ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির উন্নয়নে নতুন ‘হেরিটেজ কমিশন’ গড়া হচ্ছে। কালীঘাট, তারাপীঠ থেকে শুরু করে কঙ্কালীতলা-সহ বিভিন্ন সতীপীঠকে জুড়ে তৈরি হবে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’।
  • মেলা হবে জাতীয় স্তরের: গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক উৎসবের রূপ দেওয়ার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পুজো, তারকেশ্বর, রাস, বারুণী এবং জল্পেশ মেলাকে জাতীয় স্তরের উৎসব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়, বড়ন্তি, মুরগুমা ও গড়পঞ্চকোটকে জুড়ে একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড ট্যুরিজম সার্কিট’ তৈরি করা হবে। সরকারের এই ‘ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়িত হলে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *