এআইয়ের ধাক্কায় পকেটে টান, হু হু করে বাড়ছে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের দাম!

চাকরি হারানোর শঙ্কা ও পরিবেশ দূষণের পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নতুন প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে একলাফে অনেকটাই দাম বাড়তে চলেছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং গেমিং কনসোলের মতো নিত্যব্যবহার্য গ্যাজেটের। প্রযুক্তি বাজারে সাধারণ মানুষের এই প্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলোর এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রবল উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্য কারণ
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের এই দাম বাড়ার মূল কারণ হলো বাজারে মেমরি ও স্টোরেজ চিপের তীব্র সংকট। এআই প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো তাদের ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ এবং কোডিং এজেন্টগুলোকে প্রশিক্ষিত ও পরিচালনা করতে বিপুল পরিমাণে এই মেমরি চিপ ব্যবহার করছে। ফলে বিশ্বজুড়ে চিপের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং এর দাম গগনচুম্বী হয়ে পড়েছে। সাধারণ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং গেমিং কনসোলে ডেটা আদানপ্রদান ও সংরক্ষণের জন্য ঠিক একই ধরনের চিপ ব্যবহার করা হয়। মূল যন্ত্রাংশের এই আকাশছোঁয়া দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ডিভাইসের উৎপাদন খরচের ওপর।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকেই স্মার্টফোনের দাম লাফিয়ে বাড়ছে এবং বেশ কিছু মডেলের দাম ইতিমধ্যেই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। চুক্তির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যন্ত্রাংশের দাম আগে থেকে নির্ধারিত থাকায় অ্যাপল এতদিন এই মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ থেকে সুরক্ষিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। অ্যাপল সিইও টিম কুক সম্প্রতি গ্রাহকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মেমরি চিপের দাম বাড়ার কারণে আগামীতে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের মতো পণ্যের দাম বৃদ্ধিও কার্যত এড়ানো আসাম্ভব। অন্যদিকে ভোক্তাদের পকেটে টান পড়লেও, এই পরিস্থিতির পুরো সুবিধা পাচ্ছে মেমরি চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো। এসকে হাইনিক্স, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং আমেরিকার মাইক্রনের মতো চিপ বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কো ম্পা নিগুলোর ভ্যালুয়েশন এই মুহূর্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।