একুশের মঞ্চে কি আসছেন রাহুল গান্ধী? রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা!

একুশের মঞ্চে কি আসছেন রাহুল গান্ধী? রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা!

কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় এবং তার পরবর্তী আবহে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মরিয়া প্রদেশ কংগ্রেস। আগামী ২১ জুলাই শহিদ মিনারে আয়োজিত ‘শহিদ তর্পণ’ কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রদেশ নেতৃত্ব।

রাজ্য কংগ্রেসের অন্দরের খবর, সংগঠনের শক্তি প্রদর্শন করতে পারলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিধান ভবনের বাইরে শহিদ মিনারে এই বড়সড় কর্মসূচি পালন করতে চলেছে কংগ্রেস। তবে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২১ জুলাইয়ের এই মঞ্চ কোনোভাবেই ‘যোগদান মঞ্চ’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। তিনি বলেন, “২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করাই এখন লক্ষ্য। বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ লড়াইয়ে ইচ্ছুক যে কেউ যে কোনো সময় কংগ্রেসে আসতে পারেন, কিন্তু তা ২১ জুলাইয়ের মূল মঞ্চে নয়।”

উল্লেখ্য, পূর্বতন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ২১ জুলাইয়ের সভাকে বিভিন্ন দল থেকে দলবদলের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করত। সেই ‘সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে এসে কংগ্রেস নিজেদের পৃথক ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, রাজ্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও অস্বস্তি ক্রমেই বাড়ছে। অতীতে রাহুল গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। বর্তমানে দলের অন্দরেই তৈরি হওয়া আলাদা ব্লক এবং পুরনো নেতাদের কংগ্রেসমুখী হওয়ার প্রবণতায় তৃণমূলে অস্বস্তি বাড়ছে। রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, এই পরিস্থিতির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে, রবিবার শ্যামবাজারে দলীয় কর্মসূচির পর প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সাধারণ মানুষের মতো বাসে যাতায়াত করার দৃশ্য কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি থাকা সত্ত্বেও চালকদের ছুটি দিয়ে সাধারণ যাত্রী হিসেবে বাসে যাতায়াত করাকে শুভঙ্করের ‘সহজ জীবনযাত্রা’ হিসেবেই দেখছেন দলের সদস্যরা। সব মিলিয়ে, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ময়দানে কংগ্রেসের নতুন সক্রিয়তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *