একই ছাদের তলায় ৫৫টি সরকারি সুবিধা! নন্দীগ্রামে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

একই ছাদের তলায় ৫৫টি সরকারি সুবিধা! নন্দীগ্রামে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

কলকাতা: সাধারণ মানুষের দুয়ারে সরকারি পরিষেবা সরাসরি পৌঁছে দিতে সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হলো এক মেগা প্রশাসনিক কর্মসূচি— ‘জনকল্যাণ শিবির’। পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর এই প্রথমবার রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে এই ধরনের বিশাল শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।

সোম, মঙ্গল ও বুধ— আগামী তিন দিন ধরে ব্লকে ব্লকে চলবে এই বিশেষ অভিযান। সপ্তাহের প্রথম দিনেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামের একটি শিবিরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের অন্যান্য ব্লকের শিবিরগুলিতেও স্থানীয় মন্ত্রী ও বিধায়কেরা উপস্থিত থাকছেন।

একই ছাদের তলায় ৫৫টি পরিষেবা:

এই তিন দিনের বিশেষ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ একই ছাদের তলায় প্রায় ৫৫ ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও নাগরিক পরিষেবা পাবেন। কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় সরকারের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের ফর্ম তোলা এবং তা নিখুঁতভাবে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সরাসরি সাহায্য করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে রাজ্যে নতুন চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। এই দুই মেগা প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণ ও জমা নেওয়ার জন্য প্রতিটি শিবিরে বিশেষ কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যেসব পরিষেবা মিলবে এই শিবিরে:

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তিন দিনে জনকল্যাণ শিবিরগুলি থেকে মূলত ৩টি ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ করা হবে:

  • নতুন নাম নথিভুক্তকরণ: অন্নপূর্ণা যোজনা, যুবশক্তি প্রকল্প, পিএম কিষান যোজনা, বিধবা ভাতা এবং বার্ধক্য ভাতার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির জন্য নতুন করে নাম লেখানো যাবে।
  • নথিপত্র সংশোধন: ভোটার কার্ড, পরিচয়পত্র বা অন্যান্য জরুরি সরকারি নথিতে কোনও ভুলত্রুটি থাকলে তা এই শিবিরেই সংশোধন করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
  • অভিযোগ প্রতিকার: কোনও সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যা হলে বা দীর্ঘদিন ধরে কোনও কাজ আটকে থাকলে, সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্যাম্পে এসে আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে প্রশাসনকে সরাসরি সাধারণ মানুষের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই তিন দিনের ‘মেগা ড্রাইভ’ নিয়েছে নতুন সরকার। তথ্যের অভাব বা কোনও রকম গাফিলতির কারণে যাতে কোনও যোগ্য বা দরিদ্র মানুষ সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *