চুক্তি করতে ‘মরিয়া’ ছিলেন ট্রাম্প, খাটিয়েছেন চরম প্রভাব! আমেরিকা-ইরান চুক্তির পরই খামেনেইয়ের বিস্ফোরক দাবি

চুক্তি করতে ‘মরিয়া’ ছিলেন ট্রাম্প, খাটিয়েছেন চরম প্রভাব! আমেরিকা-ইরান চুক্তির পরই খামেনেইয়ের বিস্ফোরক দাবি

তেহরান: দীর্ঘ সংঘাতের অবসানে সবেমাত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি (MoU)। আর এই চুক্তির ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি নিশানা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, এই চুক্তিতে সই করার জন্য কার্যত ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছিলেন ট্রাম্প এবং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে তিনি সব ধরনের প্রভাব ও চাপ সৃষ্টি করেছেন।

গত ১৮ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেন। এরপরই বৃহস্পতিবার দেশবাসীর উদ্দেশে চুক্তির বিষয়ে মুখ খোলেন খামেনেই।

চুক্তিতে কেন সায় দিল ইরান? খামেনেই অকপটে স্বীকার করেছেন, নীতিগত কারণে তিনি প্রথমদিকে এই চুক্তির ঘোর বিরোধী ছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল তাঁকে আশ্বস্ত করে যে, এই চুক্তিতে দেশের এবং ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। এরপরই তিনি সবুজ সংকেত দেন। খামেনেই বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টই সেই ব্যক্তি, যিনি মরিয়া হয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রভাব খাটিয়েছেন।”

আমেরিকার ‘বাড়াবাড়ি’ মানবে না তেহরান এই চুক্তির মানে এই নয় যে আমেরিকার সমস্ত নির্দেশ ইরান মেনে নেবে। সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা শুরু হলেও তা শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়ার সমতুল্য নয়। মার্কিন পক্ষ অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক দাবি তুললে আমরা তার কাছে আত্মসমর্পণ করব না।” ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও খামেনেইর এই অবস্থানকে সমর্থন করে জানিয়েছেন, আগামী দিনের আলোচনায় ইরানের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় তেহরান তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।

হরমুজ প্রণালীতে স্বস্তি, শুরু ৬০ দিনের ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির ফলে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় স্বস্তি মিলেছে।

  • অবরোধ প্রত্যাহার: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সামুদ্রিক অবরোধ ও জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযান স্থগিত করেছে।
  • টোল ফ্রি যাতায়াত: বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে দ্রুত ট্রানজিট অনুমোদন দিচ্ছে ইরান এবং আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের সমস্ত ফি মকুব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এটি কোনও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়, বরং একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ। আগামী ৬০ দিন উভয় দেশ সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে এবং এর মধ্যেই ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো মেটাতে বৃহত্তর আলোচনা চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *