“রিল হলো একবিংশ শতাব্দীর নেশা!”— ১০০০ জনে মাত্র ১২ জন চাকরি পাচ্ছে দাবি করে কেন্দ্রকে তীব্র তোপ রাহুলের

প্রয়াগরাজ: দেশের শিক্ষা, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারি নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে এবার কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ ও ‘স্টুডেন্টস ইকো’ নামক একটি বিশেষ যুব সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এই তোপ দাগেন।
সমাবেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে দেশের ডিজিটাল ডেটা ও তরুণদের মেধা শোষণের চিত্র তুলে ধরেন রাহুল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দেশের তরুণদের ডেটা ব্যবহার করেই বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি মুনাফা লুঠছে। অথচ এই ডেটা আর মেধার আসল মালিক যে যুবসমাজ, তারাই আজ এক সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার মধ্যে বন্দি।”
দেশের বর্তমান বেহাল কর্মসংস্থানের করুণ ছবি তুলে ধরে কংগ্রেস সাংসদ দাবি করেন, বর্তমানে প্রতি ১,০০০ জন তরুণের মধ্যে মাত্র ১২ জন স্থায়ী চাকরি পাচ্ছেন। তরুণদের মূল সমস্যা থেকে বিভ্রান্ত রাখতে ‘রিল’ আসক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি কটাক্ষ করেন, “রিল হলো একবিংশ শতাব্দীর নতুন নেশা। তরুণদের সারাদিন রিলে ডুবিয়ে রেখে দিনশেষে ব্লিংকিট বা উবারের মতো সংস্থায় স্বল্প মজুরির শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।”
ভারতের ৪০ কোটি যুবশক্তি এবং প্রতিদিন তৈরি হওয়া অগণিত ডেটাই একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশকে আমেরিকা, চীন বা রাশিয়ার চেয়ে এগিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন রাহুল। তবে সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের এই সম্পদ নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবাদমাধ্যম— সর্বত্রই মুক্তচিন্তা দমনের চেষ্টা চলছে বলে তোপ দাগেন তিনি। সম্প্রতি দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেস যে আন্দোলন গড়ে তুলেছে, প্রয়াগরাজের এই সমাবেশ তারই অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।