৫০ হাজারের এনকাউন্টার! শিশু সুন্দরীকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযুক্তকে বুলেটে জবাব দিল ইউপি পুলিশ

বুলন্দশহর: যোগীরাজ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। আজ, রবিবার কাকভোরে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে এক যৌথ অভিযানে পুলিশের গুলিতে খতম হলো কুখ্যাত দুষ্কৃতী মোনু। চতুর্থ শ্রেণীর এক নাবালিকাকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিল সে। অপরাধ সংঘটিত করার পর থেকেই সে পলাতক ছিল এবং তার মাথার ওপর ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল প্রশাসন।
জঙ্গলে উদ্ধার হয়েছিল ক্ষতবিক্ষত দেহ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই রাতে বুলন্দশহরের কাকোড় থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১১ বছর বয়সী ওই নাবালিকা। পরে বৈর রেলস্টেশনের কাছের এক জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ মোনুকে শনাক্ত করে। তদন্তে জানা যায়, মেয়েটিকে অপহরণ করে গণধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। গত ১ আগস্ট মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই মোনু এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
ভোররাতের রোমাঞ্চকর গুলির লড়াই
অভিযুক্তকে ধরতে লখনউ ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে ফাঁদ পেতেছিল। আজ রবিবার ভোর চারটে নাগাদ বুলন্দশহর-গুলাওথি রোডের ছাপরাওয়াত গ্রামের কাছে সোয়াত (SWAT) টিম ও স্থানীয় পুলিশ রুটিন টহল দিচ্ছিল। সে সময় একটি নম্বরপ্লেটহীন মোটরসাইকেলে দুই যুবককে আসতে দেখে পুলিশ থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাইক না থামিয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দু’পক্ষের এই গোলাগুলিতে গুরুতর আহত হয় মোনু। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই সংঘর্ষে সোয়াত টিমের এক আধিকারিকসহ দুই পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। কপালজোরে বেঁচে যান দুই ওসি—বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের কারণে তাঁদের দেহে গুলি লাগেনি। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মোনুর এক সঙ্গী চম্পট দিলে তাকে ধরতে বর্তমানে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বাজেয়াপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, কার্তুজ এবং ওই মোটরসাইকেলটি বাজেয়াপ্ত করেছে। বুলন্দশহরের এসএসপি দিনেশ কুমার সিং জানান, খতম হওয়া মোনুর বিরুদ্ধে বুলন্দশহর ছাড়াও অলিগড়, বেরেলি এবং গৌতম বুদ্ধ নগরে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা বিচারাধীন ছিল।