নারী সুরক্ষায় বাংলায় ২ নতুন প্রমীলা ব্যাটালিয়ন, ভবানী ভবনের বড় মাস্টারস্ট্রোক!

রাজ্যে নারী ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নবগঠিত সরকার। বাংলার দুই ঐতিহাসিক বীরাঙ্গনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজ্যে সম্পূর্ণ ডেডিকেটেড দুটি নতুন ‘লেডি এসপিআরএফ’ (State Police Reserve Force) ব্যাটালিয়ন গঠনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে ভবানী ভবন। সম্প্রতি এই বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ‘মাতঙ্গিনী হাজরা উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’ এবং ‘রানি শিরোমণি উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’ নামের এই দুটি বিশেষ বাহিনী গঠনের মাধ্যমে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিটোল করার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
অবস্থান ও দূরদর্শী পরিকল্পনা
প্রস্তাবে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যে মহিলা পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম বাহিনী অর্থাৎ ‘মাতঙ্গিনী হাজরা উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’-এর সদর দফতর বা পরিকাঠামো কোথায় গড়ে উঠবে, তা জমির প্রাপ্যতা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, ‘রানি শিরোমণি উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’-এর জন্য ব্যারাকপুর পুলিশ ব্রিগেড এলাকায় থাকা এসএপি ৮ম ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পাসটিকে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই ব্যাটালিয়নটিকে ইতিমধ্যেই জঙ্গিপুরের সুতি থানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে, তাই ফাঁকা থাকা এই পরিকাঠামোটি ব্যবহার করলে নতুন করে আবাসন বা অফিস তৈরির প্রাথমিক খরচ অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব হবে। ফলে এই পুরো পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং দূরদর্শী বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মূল এক্তিয়ার ও বিশাল কর্মসংস্থান
এই নতুন বাহিনী গঠনের হাত ধরে রাজ্যে এক ধাক্কায় বড়সড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নের জন্য ১০০৩টি করে পদ বরাদ্দ করা হয়েছে, যার অর্থ দুটি ব্যাটালিয়ন মিলিয়ে সর্বমোট ২০০৬টি শূন্যপদে বিভিন্ন র্যাঙ্কে কর্মী ও অফিসার নিয়োগ করা হবে। মূলত আইনি ও দফতরির কাজ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কঠোর নিরাপত্তা— সমস্ত ক্ষেত্রে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রমীলা বাহিনীর এই বিশেষ ক্যাডার কাঠামো তৈরি করেছে ভবানী ভবন।
এই দু’টি বিশেষ ব্যাটালিয়নের ওপর মূলত নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং শিশুদের সামগ্রিক কল্যাণমূলক ডিউটির দায়িত্ব থাকবে। এর পাশাপাশি রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, দাঙ্গার মতো আপৎকালীন পরিস্থিতি দমন, মানব পাচার রোধ এবং বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করার ক্ষেত্রেও এই প্রমীলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে। বড় বড় উৎসব বা ধর্মীয় জনসমাবেশে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়াও, নারী সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলা ও জটিল তদন্তের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলা পুলিশ ও পুলিশ কমিশনারেটকে সরাসরি সাহায্য করবে এই বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে নারী নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই পদক্ষেপ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।