অবশেষে অবসান ঘটছে ইরান-মার্কিন যুদ্ধের, ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মোদি!

১০০ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছে ইরান ও আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ঘোষণার পর এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরার আশা প্রকাশ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। কাতারের মধ্যস্থতায় আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।
জ্বালানি সংকট ও ভারতের ক্ষয়ক্ষতি
দীর্ঘ এই যুদ্ধের প্রভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপরেও। হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। ফলস্বরূপ ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল, ডিজেল, সিএনজি এবং রান্নার গ্যাসের দাম, যা সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ভারতকে চরম মানবিক ক্ষয়ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন হামলায় একটি বাণিজ্য জাহাজে থাকা তিনজন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের অভ্যন্তরে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
মুক্ত বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত
নতুন এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে পুনরায় সচল হতে যাচ্ছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, এই চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনাই পুনরুদ্ধার করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।