একবিংশ শতাব্দীতেও মধ্যযুগীয় বর্বরতা! ৬ কিলোমিটার হেঁটে শিকল বাঁধা অবস্থায় থানায় হাজির গৃহবধূ

একবিংশ শতাব্দীতেও মধ্যযুগীয় বর্বরতা! ৬ কিলোমিটার হেঁটে শিকল বাঁধা অবস্থায় থানায় হাজির গৃহবধূ

মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার খিলচিপুর থানা এলাকার ছিপিপুরা গ্রামে এক গৃহবধূকে ২৪ ঘণ্টা শিকল দিয়ে বেঁধে অকথ্য নির্যাতন চালানোর ঘটনা সামনে এসেছে। গলায় ঝুলছে তালাবদ্ধ লোহার শিকল, আর সারা শরীরে তপ্ত লোহার ছ্যাঁকার ক্ষত। এই বীভৎস অবস্থাতেই প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে পালিয়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে থানায় হাজির হন এক নির্যাতিতা নারী। তাঁর এই ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

তুচ্ছ বিবাদ ও বর্বরোচিত নির্যাতন

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ জুন রাতে একটি অত্যন্ত তুচ্ছ পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে। ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতা নারী তাঁর স্বামীর জন্য খাবার রান্না করলেও তা সময়মতো পরিবেশন করেননি। এই সামান্য কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তাঁর স্বামী সর্দার সিং তানওয়ার। মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পর গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন তিনি।

মারধরের পর ওই নারী প্রথমবার থানার উদ্দেশ্যে রওনা হলে, খিলচিপুরের একটি মন্দিরের সামনে থেকে স্বামী তাঁকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসেন। এরপর ঘরে এনে গলায় লোহার শিকল পরিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, গরম লোহার রড দিয়ে সারা শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং ২৪ ঘণ্টা এভাবে বন্দি রেখে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে স্বামী পঞ্চায়েত ডাকতে বাইরে গেলে, সুযোগ বুঝে একটি পাথরের সাহায্যে খুঁটির তালা ভেঙে কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন ওই নারী।

আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রভাব

গলায় শিকল বাঁধা অবস্থায় ওই নারী থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশ দ্রুত তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে, যেখানে নির্যাতনের স্পষ্ট ও ভয়াবহ প্রমাণ মিলেছে। খিলচিপুর থানার পুলিশ আধিকারিক কমল সিং গেহলট জানিয়েছেন, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী সর্দার সিং তানওয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক কলহের জেরে নারীদের ওপর এমন চরম মধ্যযুগীয় পাশবিকতা সমাজে ক্রমবর্ধমান সহনশীলতার অভাব ও বিকৃত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। এই ধরণের ঘটনা প্রতিরোধে এবং পারিবারিক সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইনি সাজার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *