সাড়ে তিন মাসের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন!

সাড়ে তিন মাসের তীব্র সামরিক সংঘাত ও অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে শান্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী শুক্রবার, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈল ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।
চুক্তির শর্ত এবং সমঝোতার রূপরেখা
কাতারের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তে একমত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং অতীতে বাজেয়াপ্ত করা ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে। এর বিনিময়ে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। তবে ইরানের শান্তিপূর্ণ ও অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেবে আমেরিকা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সহযোগিতায় দেশটিকে সহায়তা করা হবে। একই সাথে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ মুক্ত ঘোষণা করে সেখানে স্বাধীন নৌচলাচলের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
সংঘাতের কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব
গত সাড়ে তিন মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। এই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উত্তেজনা ও অবরোধই ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ। এই শান্তি চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ নিরাপদ হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া চুক্তির প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ইরান বহির্বিশ্বে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকলে তা এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।