মমতার হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূল! আইনের জটিল অঙ্কে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

লোকসভায় হঠাৎ বড়সড় ভাঙনের মুখে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কোপে কি পড়বেন এই সাংসদরা, নাকি সংখ্যার জোরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেই ফসকে যাবে নিজের তৈরি দল এবং প্রতীক? বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতার আবর্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
দশম তফসিল ও দুই-তৃতীয়াংশের আইনি অঙ্ক
এই রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবিধানের দশম তফসিল, যা দলত্যাগ-বিরোধী আইন নামে পরিচিত। ১৯৮৫ সালে দলবদল রুখতে এই আইন পাস হলেও, ২০০৩ সালে ৯১তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে নিয়মে বড় বদল আনা হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দলের সাংসদ বা বিধায়করা যদি শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে অন্য কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তবে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ জনপ্রতিনিধির সমর্থন থাকা বাধ্যতামূলক।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সাংসদ সংখ্যা ২৮ জন। সেই হিসাবে দলত্যাগ-বিরোধী আইন এড়াতে প্রয়োজন ১৯ জন সাংসদের সমর্থন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের সঙ্গে ২০ জন সাংসদ রয়েছেন এবং এই সংখ্যাটি ২২ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে অঙ্কের হিসাবে বিদ্রোহীরা আইনি ফাঁসের বাইরেই থাকছেন এবং খাতায়-কলমে নিয়মের ভেতরে থেকেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
দলের নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা
বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের পদ বাঁচাতে পারলেও দলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ, সংসদ সদস্যপদ রক্ষা করা এবং দলের ওপর মালিকানা দাবি করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, যখনই কোনও দলে এমন বড় ভাঙন ধরেছে, তখন নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সে ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যা নয়, দলের মূল সাংগঠনিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ কমিটিতে কার কত শতাংশ সমর্থন রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হয়। লোকসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারালেও তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ এখনও অত্যন্ত মজবুত। ফলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সাংসদ পদে টিকে গেলেও, নির্বাচন কমিশনের নিয়মে পুরো দলটাই মমতার হাতছাড়া হবে কিনা, তা ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই ও কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।