ঋতব্রতের সঙ্গে ফিরহাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক! বিরোধী শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে ৬৫

রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন সমীকরণ। সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর এই বৈঠকের পরপরই বিরোধী শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা বৃদ্ধির জল্পনা উসকে দিয়েছেন খোদ বিরোধী দলনেতা।
মমতার বিশ্বস্ত সেনাপতির অবস্থান নিয়ে জল্পনা
বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের দিকে থাকা বিধায়কের সংখ্যা এবার বেড়ে ৬৫ হয়েছে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে, শাসকদলের ৬৪ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই ‘বেসুরো’। ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক পরেই এই সংখ্যাটি ৬৪ থেকে ৬৫ হওয়ার ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও এই নতুন সংযোজিত বিধায়কটি ফিরহাদ হাকিম কি না, সে বিষয়ে বিরোধী দলনেতা সরাসরি কিছু স্পষ্ট করেননি। তবে এই বিশেষ মুহূর্তে এমন ঘোষণা মমতার অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিকের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শাসকদলে ভাঙনের ইঙ্গিত ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূল কংগ্রেসে সাম্প্রতিক যে ভাঙনের চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার মাঝেই এই ঘটনা শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড়সড় চিন্তার কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ফিরহাদ হাকিম তৃণমূল নেত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর মতো প্রথম সারির নেতার যদি সত্যিই দলবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে তা দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রবল ধাক্কা দেবে। এই পরিস্থিতির জেরে বিধানসভায় শাসকদলের শক্তি ক্রমশ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবলেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজনীতিতে এই ধরনের দলবদল আগামী দিনে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড়সড় রদবদল ঘটাতে পারে।