রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশের আরও কাছে এনডিএ, তৃণমূলের ভাঙনে বদলাচ্ছে সমীকরণ

তৃণমূল কংগ্রেসে চলতে থাকা সাম্প্রতিক ভাঙনের জেরে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসক জোট এনডিএ (NDA)-র অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই রাজনৈতিক ওলটপালটের জেরে রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে শাসক শিবির, যা দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বদলাচ্ছে আসন সংখ্যার অঙ্ক
গত এপ্রিল মাসে রাজ্যসভায় এনডিএ ১৪৫ জন সদস্যের সমর্থন পেয়েছিল। সেই সময় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৩টি আসনের থেকে তারা মাত্র ১৭টি ভোট পিছিয়ে ছিল। তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং একাধিক সাংসদের দলত্যাগের ফলে জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের শক্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। লোকসভায় তৃণমূলের একটি বড় অংশ বিদ্রোহী অবস্থান নিয়ে এনডিএকে সমর্থনের কথা জানানোর পর, তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব এখন রাজ্যসভার অঙ্কেও পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যসভা থেকে তৃণমূলের অন্তত ৩ জন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন এবং আরও একজন সাংসদের পদত্যাগ ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলায় রাজ্যসভার যে ৪টি আসনে উপনির্বাচন হতে পারে, তার মধ্যে অঙ্কের নিরিখে অন্তত ৩টি আসন বিজেপির ঝুলিতে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত।
আঞ্চলিক দলের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বাংলার পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস প্রার্থীর হলফনামা বাতিল হওয়ায় একটি নিশ্চিত আসন নিজেদের কবজায় এনেছে বিজেপি। এছাড়া মিজোরাম এবং ঝাড়খণ্ডেও রাজ্যসভার আসনে জয়ের আশা করছে তারা। এই সমস্ত আসন যুক্ত হলে রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৫৪-তে পৌঁছে যেতে পারে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে শাসক জোট অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসবে। তবে আগামী নভেম্বরে উত্তরপ্রদেশের ১০ জন বিজেপি সাংসদের মেয়াদ শেষ হতে চলায় সেখানে সমাজবাদী পার্টি বেশ কিছু আসন পুনরায় ছিনিয়ে নিতে পারে। বর্তমানে উচ্চকক্ষে বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের কাছে ৬৪টি আসন রয়েছে এবং ডিএমকে ইতিমধ্যেই এই জোট থেকে সরে এসেছে। অন্যদিকে ওয়াইএসআরসিপি এবং বিজেডির মতো আঞ্চলিক দলগুলির কাছে যথাক্রমে ৭ ও ৬ জন রাজ্যসভা সদস্য রয়েছেন, যাদের অবস্থানও সমীকরণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি অংশ ইতিমধ্যেই ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ার (NCPI) সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে প্রকাশ্যেই এনডিএকে সমর্থনের ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ সংসদে বিরোধী শিবিরের শক্তি আরও কমিয়ে দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, তৃণমূলে ভাঙনের প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তার বড়সড় প্রতিফলন ঘটছে দিল্লির মসনদে, যেখানে উচ্চকক্ষের সংখ্যার অঙ্ক ক্রমশ এনডিএর পক্ষে অনুকূল হয়ে উঠছে।