তৃণমূলের প্রতীক ও ১৬০০ কোটির দাবি ছাড়ছেন না বিদ্রোহীরা, এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েও বিস্ফোরক সুদীপ!

জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করে নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদরা। তবে নতুন রাজনৈতিক ছাতার তলায় আশ্রয় নিলেও তৃণমূলের মূল রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় প্রতীক এবং প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার তহবিলের ওপর থেকে তাঁরা যে দাবি ছাড়ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণ এই নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট যে, জোড়াফুল শিবিরের অন্দরের লড়াই এবার স্রেফ দলবদলে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা এক দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে।
দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে বিশেষ কৌশল
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা লোকসভায় আলাদা ব্লক হিসেবে বসবেন, নাকি অন্য কোনো দলে মিশে যাবেন—তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলত্যাগ বিরোধী আইনের কঠোর জটিলতা এড়াতেই তাঁরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন থাকলেও যদি কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া যায়, তবে সাংসদ পদ খারিজের ঝুঁকি থেকে যায়। মূলত এই আইনি রক্ষাকবচ পেতেই তাঁরা এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে আগামী ২০ জুলাই সংসদের অধিবেশন শুরু হলে এবং তাঁদের শিবিরে আরও সাংসদ যোগ দিলে, লোকসভার স্পিকারের কাছে তাঁরা নিজেদের আসল সংসদীয় শক্তি ও অবস্থান নথিভুক্ত করাবেন।
উত্তরাধিকার ও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
বিদ্রোহী শিবিরের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল আইন বাঁচানোর তাগিদই নেই, রয়েছে দলের মূল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা। তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক, লোগো এবং বিশাল আর্থিক তহবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী আইনি পথে এগোবে এবং তাঁদের আইনজীবীরা এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন। বিক্ষুব্ধদের দাবি, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ সরিয়ে দিতে চান না, বরং তাঁকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামোর ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে দেখতে চান। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে সুদীপ জানান, বাংলায় একবার ক্ষমতা হারালে পুনরুত্থান অত্যন্ত কঠিন। তাই বহু বছরের পরিশ্রমে তৈরি এই সংগঠনকে রাজনৈতিক ভুলের কারণে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতেই তাঁরা এই পথে হেঁটেছেন।
এই বিদ্রোহের ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন এক নতুন মাত্রা পেল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতের জেরে আগামী দিনে তৃণমূলের মূল দলটির প্রতীক ও কোটি কোটি টাকার সাংগঠনিক সম্পদের মালিকানা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও আদালত পর্যন্ত জল গড়াতে পারে। ফলে, আসন্ন সংসদ অধিবেশন এবং পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহল।