সপ্তাহের শুরুতেই রকেট গতিতে ছুটল শেয়ার বাজার, বিনিয়োগকারীদের পকেটে এলো ১০ লাখ কোটি!

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রেকর্ড গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথেই ব্যাপক কেনাকাটার জেরে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি উভয়ই শক্তিশালী ঐতিহাসিক উত্থানের সাক্ষী হয়। লেনদেন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেনসেক্স ১,১০০ পয়েন্টের বেশি লাফ দেয় এবং নিফটি ২৪,০০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এই অভূতপূর্ব জোয়ারের ফলে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর সামগ্রিক বাজারমূল্য এক ধাক্কায় ১০ লাখ কোটি টাকা বেড়ে গেছে।
বাজারের এই উলফাত ও রকেট গতির উত্থানের প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনকে চিহ্নিত করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি এনেছে। এই চুক্তির ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতির জন্য বড় আশার বার্তা।
রেকর্ড সূচক ও তেল খাতের জয়জয়কার
সোমবার বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিএসই সেনসেক্স প্রায় ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬,৭০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। একই গতিতে এনএসই নিফটি ৫০ সূচকও দেড় শতাংশের বেশি বেড়ে ২৩,৯৮০-এর কাছাকাছি অবস্থান নেয়। এই বড় উত্থানের দিনে কেবল বৃহৎ পুঁজির সংস্থাই নয়, বরং মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকগুলিও সমান তালে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার কারণে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে তেলের দামের সাথে সরাসরি যুক্ত খাতগুলি। উৎপাদন ব্যয় কমে যাওয়ার এবং মুনাফা বাড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনায় বিমান পরিবহণ, পেট্রোলিয়াম বিপণন, টায়ার এবং পেইন্ট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ দেখা যায়।
বাজারের আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রভাব
গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবারেও বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখা গিয়েছিল, যেখানে সেনসেক্স প্রায় ১,৭০০ পয়েন্ট এবং নিফটি ৪৬০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে বন্ধ হয়েছিল। সেই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে নতুন সপ্তাহের শুরুতেই এই বিশাল লাফ বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়, তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামান্যতম নেতিবাচক পরিবর্তনেও বাজারের গতিপথ যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সাথে লেনদেন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।