ব্যারাকপুরে তৃণমূলে মহাধাক্কা! ভেঙে গেল পঞ্চায়েত, দল ও পদ ছাড়লেন ১৭ বছরের পুরপ্রধান উত্তম দাস

ব্যারাকপুর মহকুমার রাজনীতিতে সোমবার নেমে এলো এক বিরাট বিপর্যয়। একদিনেই জোড়া ধাক্কায় কার্যত তছনছ হয়ে গেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় সংগঠন। একদিকে যেমন ১৯ জন সদস্যের একযোগে পদত্যাগের জেরে ভেঙে গেল মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত বোর্ড, তেমনই অন্যদিকে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদে থাকা হেভিওয়েট নেতা উত্তম দাস একযোগে দল ও সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন। এই জোড়া পতনে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯ সদস্যের একযোগে ইস্তফা, পতন ঘটল মোহনপুর পঞ্চায়েত বোর্ডের
২৯ সদস্য বিশিষ্ট মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে আগেই দু’জন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। সোমবার নাটকীয়ভাবে উপপ্রধান সব্যসাচী বিশ্বাস-সহ আরও ১৯ জন সদস্য স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিসে গিয়ে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে পতন ঘটে তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েত বোর্ডের।
উন্নয়ন থমকে যাওয়ার অভিযোগে এই গণ-পদত্যাগ বলে দাবি করেছেন বিদায়ী উপপ্রধান সব্যসাচী বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী:
- প্রধানের অনুপস্থিতি: গত ৪ মে-র পর থেকেই পঞ্চায়েত প্রধান সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রয়েছেন।
- পরিষেবা স্তব্ধ: প্রধান না থাকায় এলাকার সমস্ত রকম উন্নয়নমূলক কাজ এবং নাগরিক পরিষেবা কার্যত থমকে গিয়েছে।
- মানুষের স্বার্থে সিদ্ধান্ত: সাধারণ মানুষের সমস্যার কোনও সমাধান করা যাচ্ছিল না এবং তাঁদের ক্ষোভের মুখে পড়ে কোনও সদুত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে মানুষের স্বার্থেই এই সম্মিলিত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘জনগণ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে’, দল ও পদ ছেড়ে তোপ ১৭ বছরের পুরপ্রধানের
মোহনপুর পঞ্চায়েত ভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যারাকপুর পুরসভাতেও বড়সড় ধাক্কা খায় ঘাসফুল শিবির। সোমবার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ, কাউন্সিলর পদ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ— একযোগে এই তিন ক্ষেত্র থেকেই একঝটকায় সরে দাঁড়ানোর বিস্ফোরক ঘোষণা করেন উত্তম দাস। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলানো এই বর্ষীয়ান নেতার দলত্যাগে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দল ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি জনগণের রায়কে হাতিয়ার করেছেন উত্তম দাস। তাঁর দাবি:
- জনগণের প্রত্যাখ্যান: ব্যারাকপুরের সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
- নৈতিক দায়িত্ববোধ: তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন পুরসভার চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু এখন যেহেতু জনগণের সমর্থন আর দলের সাথে নেই, তাই জনগণের সেই রায়কে সম্মান জানিয়ে সম্পূর্ণ নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দল থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি নিচ্ছেন।