বুলডোজারের ভয় নাকি দলবদলের আতঙ্ক? রাতারাতি ভোলবদল বারাসাতের তৃণমূল কার্যালয়ের!

বুলডোজারের ভয় নাকি দলবদলের আতঙ্ক? রাতারাতি ভোলবদল বারাসতের তৃণমূল কার্যালয়ের!

একই বহুতল, কিন্তু রাতারাতি বদলে গেল তার চেনা রাজনৈতিক পরিচয়! উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত শহরের কেএনসি (KNC) রোডের ধারে বহুদিনের চেনা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো দলীয় সাইনবোর্ড। তার জায়গায় এখন ঝুলছে ‘কেএনসি রেজিমেন্ট শ্যামাপুজো কার্যালয়’-এর ব্যানার। কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক এই ভোলবদলকে কেন্দ্র করে বারাসাতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ঝাঁ চকচকে দলীয় কার্যালয়

তৃণমূল জমানায় বারাসাত শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কেএনসি রোডের ফুটপাথ লাগোয়া জায়গায় এই ঝাঁ চকচকে কার্যালয়টি তৈরি হয়েছিল। ফুটপাথের জায়গা দখল করে এই নির্মাণ নিয়ে অতীতে একাধিকবার বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এতদিন এটিই ছিল বারাসাতের তৃণমূল নেতাদের অন্যতম প্রধান ঠিকানা। বিশেষ করে ভোটের মরশুমে এখানে শাসক দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক আনাগোনা থাকত। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনও এই কার্যালয়টিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, বিজেপি কর্মীরা সেখানে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায় এবং তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হয়। তবে সেই হিংসাত্মক ঘটনার পরও দলীয় কার্যালয়ের বোর্ড অক্ষত ছিল।

উচ্ছেদ অভিযানের খাঁড়া নাকি সম্পত্তি রক্ষার কৌশল?

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে আচমকা এই রূপান্তর নিয়ে শহরের রাজনৈতিক অলিন্দে একাধিক তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা ঘুরপাক খাচ্ছে:

  • বুলডোজার ও উচ্ছেদ আতঙ্ক: ফুটপাথ লাগোয়া বিতর্কিত নির্মাণ হওয়ায় বর্তমান সময়ে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান বা বুলডোজারের খাঁড়া থেকে বাঁচতেই শহরের এক ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।
  • পুনরায় হামলার আশঙ্কা: বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনও হামলা বা ভাঙচুরের আশঙ্কায় আগেভাগেই বোর্ড সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
  • দলবদল ও অন্তর্দ্বন্দ্বের ছায়া: শাসকদলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং দলবদলের আবহ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে এই সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ যাতে হাতছাড়া না হয়, তার জন্য এই কৌশলগত ভোলবদল।

‘জায়গাটি ক্লাবেরই’, স্পষ্ট দাবি অশনি মুখোপাধ্যায়ের

শহরের অন্যতম প্রাচীন ক্লাব ‘কেএনসি রেজিমেন্ট’ বারাসাতের ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর বড় উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক চক্রান্ত বা আতঙ্কের সমস্ত তত্ত্বকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন বারাসাত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কেএনসি রেজিমেন্ট ক্লাবের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা অশনি মুখোপাধ্যায়। এই পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাফ জানান, “ওই জায়গাটি আসলে ক্লাবেরই। তাই বিল্ডিংটিও ক্লাবকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” কারণ যাই হোক না কেন, রাজনৈতিক কার্যালয় রাতারাতি পুজো কমিটির অফিসে পরিণত হওয়ার এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতুহল এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *