‘ইন্ডিয়া’ জোটে বিষ ঢালল কে? রাহুলের শিব পুরাণের উপমার জবাবে তীব্র আক্রমণ ডিএমকের!

‘ইন্ডিয়া’ জোটে বিষ ঢালল কে? রাহুলের শিব পুরাণের উপমার জবাবে তীব্র আক্রমণ ডিএমকের!

বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্দরে এবার তৈরি হলো এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন। লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী আবহে যখন বিরোধী ঐক্য মজবুত করার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করল জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ডিএমকে (DMK)। ডিএমকে-র দলীয় মুখপত্র ‘মুরাসোলি’-তে প্রকাশিত একটি তীক্ষ্ণ সম্পাদকীয়তে বিরোধী জোটে ফাটল ধরার জন্য সরাসরি কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। সেখানে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটে আসলে বিষ ঢেলেছে কে?

রাহুলের ‘শিব পুরাণ’ ও ডিএমকের তীক্ষ্ণ পাল্টা জবাব

গত ৮ জুন নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে রাহুল গান্ধী শরিক দলগুলিকে বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এক বিশেষ উপমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “কংগ্রেসের ভূমিকাই হলো ভালোবাসা ও স্নেহের মাধ্যমে আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। ভগবান শিব যেভাবে বিষ পান করেছিলেন, কংগ্রেসকেও সেইভাবেই জোটের স্বার্থে শরিকদের সমস্ত সমালোচনা মেনে নিতে হবে।”

রাহুলের এই পৌরাণিক উপমারই চরম ব্যবচ্ছেদ করেছে ডিএমকে-র মুখপত্র। সম্পাদকীয়তে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে:

  • শিব নিজে বিষ তৈরি করেননি: পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, মহাদেব শিব নিজে কিন্তু সেই বিষ সৃষ্টি করেননি। অমৃতের সন্ধানে দেব এবং অসুররা যখন সমুদ্র মন্থন করছিলেন, তখন পরিস্থিতিজনিত কারণে সেই বিষের উৎপত্তি হয়েছিল। বিশ্বকে রক্ষা করতেই শিব তা পান করেন।
  • জোট মন্থনের নেপথ্যে কে: ডিএমকে-র স্পষ্ট প্রশ্ন, ‘ইন্ডিয়া’ জোট যদি অমৃতের বদলে শুরুতেই বিষ উৎপাদন করে থাকে, তবে সেই জোটের আবহ মন্থন বা বিষিয়ে দেওয়ার পেছনে আসলে দায়ী কে ছিল?

‘কংগ্রেসের ঐক্যের ডাক অনেক দেরিতে এসেছে’

সম্পাদকীয়তে কংগ্রেসের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করা হয়েছে যে, রাহুল গান্ধীর এই ঐক্যের আহ্বান অনেক দেরিতে এসেছে। বিরোধী শিবিরের প্রধান ও শক্তিশালী আঞ্চলিক শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক কংগ্রেস নিজে অহংকারের বশে নষ্ট করেছে। একের পর এক রাজ্যে বিরোধী ঐক্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাওয়ার জন্য মূলত ‘হাত’ শিবিরই দায়ী। শরিকদের সমালোচনা মুখ বুজে সহ্য করার যে দাবি কংগ্রেস করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আর কোনও গুরুত্ব নেই বলেই মনে করছে ডিএমকে নেতৃত্ব। লোকসভা ভোটের পর জোটের অন্যতম বিশ্বস্ত শরিকের এই প্রকাশ্য তোপ জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *