জড়িয়ে ধরে রুদ্রনীলের গালে চুমু মুনমুনের! প্রিমিয়ারের মঞ্চে বিধায়কের মুখ চেপে ধরলেন অভিনেত্রী

জড়িয়ে ধরে রুদ্রনীলের গালে চুমু মুনমুনের! প্রিমিয়ারের মঞ্চে বিধায়কের মুখ চেপে ধরলেন অভিনেত্রী

রাজ্যে রাজনৈতিক হাওয়া বদলের আবহেই এবার টলিপাড়ায় এক নজিরবিহীন ও মিষ্টি মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন সিনেমা প্রেমীরা। উপলক্ষ ছিল সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবি ‘আবার হাওয়া বদল’-এর গ্র্যান্ড প্রিমিয়ার শো। আর সেই প্রিমিয়ারের মঞ্চেই রাজনীতির সমস্ত গণ্ডি পেরিয়ে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন টলিউডের দুই চেনা মুখ। একজন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মুনমুন সেন, আর অন্যজন বিজেপির সদ্য জয়ী তারকা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। ছবিটির প্রিমিয়ারে এসে রুদ্রনীলকে দেখা মাত্রই জড়িয়ে ধরলেন মুনমুন এবং প্রকাশ্যেই তাঁর গালে খেলেন এক স্নেহচুম্বন।

‘ও দুর্দান্ত অভিনেতা’, রুদ্রনীলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুনমুন

এই ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। আর ছবিতে মূল নায়িকার ভূমিকায় রয়েছেন মুনমুন সেনের কন্যা রাইমা সেন। মেয়ের ছবি দেখতে এসে রুদ্রনীলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে রীতিমতো মুগ্ধ প্রবীণ অভিনেত্রী।

রুদ্রনীলের অভিনয় দক্ষতার প্রশংসা করতে গিয়ে মুনমুন সেন বলেন:

  • can শরীরের নিখুঁত ব্যবহার: “আমি ওকে আগেই বলেছিলাম, ও একজন দুর্দান্ত অভিনেতা। অভিনয়ের সময়ে রুদ্রনীল নিজের পুরো শরীর ব্যবহার করে।”
  • অভিনয়ের গভীরতা: “ধরুন কাউকে জড়িয়ে ধরার একটা দৃশ্য আছে, যেখানে হয়তো রুদ্রনীলের মুখ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু ওর হাত ঠিক কাঁপবে। আবার ও যখন গান গাওয়ার দৃশ্যে অভিনয় করে, তখন ওর গলার শিরা পর্যন্ত ফুটে ওঠে।”

এই মন্তব্যের পরেই ক্যামেরার সামনেই তারকা বিধায়কের গাল টিপে স্নেহচুম্বন করেন মুনমুন সেন, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর মুনমুনকে নিয়ে রুদ্রনীলের ভাবনা জানতে চাওয়া হলে রুদ্রনীলকে অবশ্য কথাই বলতে দেননি অভিনেত্রী। উল্টে অত্যন্ত মজা করে ক্যামেরার সামনেই বিধায়কের মুখ চেপে ধরেন তিনি, যা দেখে হেসে ফেলেন রুদ্রনীল নিজেও।

স্নেহ কি রাজনৈতিক গণ্ডির ঊর্ধ্বে নাকি নেপথ্যে অন্য ইঙ্গিত?

টলিপাড়ার এই মিষ্টি মুহূর্তের পর রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালে তৃণমূলের টিকিটে বাঁকুড়া থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন মুনমুন সেন। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল কেন্দ্রে পরাজিত হওয়ার পর থেকে বাংলার রাজনৈতিক ফ্রেম থেকে ক্রমশ দূরে সরে যান তিনি। ২০২৩ সালে তিনি প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি আর কোনও রাজনৈতিক দলে নেই এবং বর্তমানে তিনি রাজনীতি থেকে দূরেই থাকেন। অন্যদিকে, রুদ্রনীল ঘোষ বর্তমানে বিজেপির একনিষ্ঠ ও সদ্য জয়ী বিধায়ক।

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মুনমুন সেনের এই আকস্মিক উপস্থিতি এবং বিজেপির তারকা বিধায়কের প্রতি এমন প্রকাশ্য স্কিন-শেয়ারিং ও স্নেহ প্রদর্শন কেবলই কি দীর্ঘদিনের পেশাদারী সৌজন্য, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত রয়েছে— তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *