ওয়ার্ড অফিসে মেকআপ রুম ও কন্ডোমের পাহাড়, অনন্যার ডায়েরিতে মিলল কোটি টাকার রেটচার্ট!

ওয়ার্ড অফিসে মেকআপ রুম ও কন্ডোমের পাহাড়, অনন্যার ডায়েরিতে মিলল কোটি টাকার রেটচার্ট!

কলকাতা পুরনিগমের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত, ঠিক তখনই মুকুন্দপুরে তাঁর ওয়ার্ড অফিসকে ঘিরে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে উদ্ধার হলো একের পর এক বিস্ফোরক নথি এবং সামগ্রী। ডায়েরি ভর্তি তোলাবাজির ‘রেটচার্ট’ থেকে শুরু করে অফিসের দোতলায় বিলাসবহুল মেকআপ রুম ও কন্ডোমের স্তূপ— সব মিলিয়ে মুকুন্দপুরের এই অফিস এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন হটস্পট।

প্রথম তলায় তোলাবাজি ও চাকরি বিক্রির ‘রেটচার্ট’

কাউন্সিলরের অফিসের একতলায় তল্লাশি চালাতেই টেবিলের ওপর থেকে উদ্ধার হয় একাধিক ডায়েরি ও খাতা। সেই ডায়েরিগুলোর পাতা ওল্টাতেই চোখ চড়কগাছ প্রত্যক্ষদর্শীদের। সেখানে সাব-সেকশন বা বিভাগ ভাগ করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিভিন্ন প্রমোটার, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকার খতিয়ান লেখা রয়েছে।

নথিতে মূলত যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে:

  • হাসপাতাল ও প্রোমোটারদের তালিকা: তালিকায়地域の একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালের নাম রয়েছে, যাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি এলাকার একাধিক প্রোমোটারের নাম ও ঠিকানার পাশে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার অঙ্ক লেখা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় প্রতিটি আবাসন বা বিল্ডিং পিছু ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা করে বাধ্যতামূলকভাবে তোলা দিতে হতো।
  • চাকরি বিক্রির হলুদ খাতা: লাইভ ক্যামেরার সামনেই উদ্ধার হয় একটি হলুদ রঙের ডায়েরি, যা আদতে চাকরি বিক্রির খাতা বলে দাবি স্থানীয়দের। ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ক্যাডার ও চাকরিপ্রার্থীদের পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ (যেমন SWM বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, স্বাস্থ্য দফতর ও অন্যান্য সরকারি দফতর) অনুযায়ী ভাগ করে নাম লেখা রয়েছে। কোন এলাকা থেকে কত ‘ক্লায়েন্ট’ পাওয়া গেল, তার সুবিধার্থে মুকুন্দপুর ৬, বিকাশ গুহ কলোনি বা মুকুন্দপুর ৬ বি-এর মতো এলাকাভিত্তিক ভাগও করা ছিল ওই খাতায়।

দোতলায় ঝাঁ চকচকে মেকআপ রুম ও কন্ডোমের স্তূপ

একতলার এই আর্থিক কেলেঙ্কারির খতিয়ান পেরিয়ে অফিসের দোতলায় উঠতেই পরিস্থিতি আরও চমকপ্রদ civilisation হয়ে ওঠে। সেখানে দেখা যায় কাউন্সিলরের জন্য তৈরি এক ঝাঁ চকচকে এবং চোখ ধাঁধানো মেকআপ রুম। আর সেই মেকআপ রুমের টেবিল ও আলমারি থেকে উদ্ধার হয় ডাঁই করে রাখা গাদা গাদা কন্ডোমের প্যাকেট, জরুরি গর্ভনিরোধক ওষুধ এবং বেশ কিছু নতুন পাঞ্জাবি।

একটি সরকারি ওয়ার্ড অফিসের ভেতরে এই flavour-এর সামগ্রীর বিপুল মজুত দেখে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট প্রশ্ন, “জনগণের পরিষেবার জন্য তৈরি একটি কাউন্সিলর অফিসে কন্ডোমের পাহাড় কেন থাকবে? এঁরা এখানে কি কোনো গোপন ব্যবসা চালাতেন?”

‘এটাই তৃণমূলের পরম্পরা’, কটাক্ষ রুদ্রনীলের এবং অনন্যার সাফাই

এই ঘটনা সামনে আসতেই কড়া ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এটাই আসলে তৃণমূলের আসল পরম্পরা ও সংস্কৃতি। সাধারণ মানুষকে কীভাবে লুঠ করা হয়েছে, তা এই অফিসের বৈভব আর বহর দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। যারা loyalty ও লুঠপাটে সহযোগিতা করেছে, দলনেত্রী তাদেরই বড় বড় আখের গুছিয়ে দিয়েছেন।”

Designation ও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে নিজের অফিস থেকে এই সামগ্রী ও ডায়েরি উদ্ধারের ঘটনাকে একেবারেই আমল দিতে নারাজ কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অত্যন্ত উদাসীনভাবে নিজের সাফাই দিয়ে বলেন, “যাক না, দেখুক গে। ওটা কলকাতা কর্পোরেশনের অফিস, সেখানে অফিশিয়ালি যা ফাইলপত্র বা কাজ হওয়ার, তা দেখতেই পারে। আর সামনেই বর্ষা আসছে, তাই গরিব মানুষের জন্য ত্রাণের সামগ্রী মজুত করা রয়েছে। কিছুদিন আগেই ইদ গিয়েছে, তাই বিতরণের জন্য কিছু জামাকাপড় ও পাঞ্জাবি রাখা ছিল। ওখানে কোনো তল্লাশি বা ভাঙচুর চলছে কি না, তা আমাকে অফিশিয়ালি কেউ জানায়নি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *