বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরে ফিরহাদ, ঘনীভূত হচ্ছে দলবদলের জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন ডামাডোল এবং ভাঙনের আবহে এবার সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হলো কলকাতা বন্দরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে। তিনি কি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকছেন, নাকি বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন— এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ল। সোমবার বিধানসভার লবিতে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে কথা বলার ঠিক পরপরই সোজা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন ফিরহাদ হাকিম।
সন্দীপন-জাভেদের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার ঘরে ফিরহাদ
সোমবার বিধানসভা চত্বরে ফিরহাদ হাকিমের গাড়ি ঢোকার মুহূর্ত থেকেই নাটকের সূত্রপাত হয়। তাঁর গাড়ির ঠিক পিছনেই এসে দাঁড়ায় এন্টালির বিধায়ক তথা তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম মুখ সন্দীপন সাহার গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমেই সন্দীপন সরাসরি ফিরহাদের দিকে এগিয়ে যান এবং তাঁকে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
বিধানসভার অলিন্দে ঘটে যাওয়া মূল ঘটনাগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
- কুণাল ঘোষের সাথে সাক্ষাৎ: বিধানসভার লবিতে যাওয়ার সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের মুখোমুখি হন ফিরহাদ। সেখানে দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয়।
- ঋতব্রতর ঘরে প্রবেশ: কুণাল ঘোষের সঙ্গে কথা শেষ করেই ফিরহাদ হাকিম সোজা এগিয়ে যান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের দিকে। সেখানে আগে থেকেই সন্দীপন সাহার সাথে উপস্থিত ছিলেন আর এক বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান।
- রুদ্ধদ্বার বৈঠক: বিরোধী দলনেতার ঘরে ঢুকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা ও জাভেদ খানের সাথে বৈঠক করেন কলকাতা বন্দরের বিধায়ক। সূত্রের খবর, ওই ঘরে সেই সময় বিক্ষুব্ধ শিবিরের আরও বেশ কয়েকজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।
ফিরহাদকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে দলবদলের জল্পনা
তৃণমূল কংগ্রেস যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তখন ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগেও গত ৮ জুন সন্দীপন সাহাকে সাথে নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। সেবার প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে কাটানোর পর বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি তিনি।
সম্প্রতি ফিরহাদ হাকিমের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি কোনও ব্যক্তি বিশেষের নাম নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলেই সংখ্যার খেলা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতির মধ্যে ফিরহাদ হাকিম শেষ পর্যন্ত কী রাজনৈতিক অবস্থান বেছে নেন, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।