সীমান্তে কড়াকড়ির জের, এবার বাংলাতেই তৈরি হলো হেরোইন ল্যাব!

আফগানিস্তান, বাংলাদেশ বা মণিপুর থেকে চোরাপথে মাদক এনে বিক্রির চেনা ছক বদলে যাচ্ছে অপরাধ জগতে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার খোদ বাংলার বুকেই গড়ে তোলা হচ্ছে মাদক তৈরির আস্ত ল্যাব। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় এমনই এক গোপন হেরোইন কারখানার হদিশ পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ প্রশাসনের। ফরাক্কা থানার পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে এই ল্যাব থেকে চারজন মহিলাসহ মোট সাতজন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ঘটনার মূল পাণ্ডা, বিহারের বাসিন্দা ইসমাইল শেখ বর্তমানে পলাতক।
যেভাবে চলত ফরাক্কার গোপন ল্যাব
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে বিহারের বাসিন্দা ইসমাইল শেখ মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার নিউ ফরাক্কা এলাকায়, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে লোহাপট্টিতে দুটি ঘর ভাড়া নেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটিকে মাদক ব্যবসার নিরাপদ করিডোর হিসেবে বেছে নেয় সে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে সম্পূর্ণ গোপনে গড়ে তোলা হয়েছিল এই হেরোইন তৈরির ল্যাব। সেখানে কাঁচামাল এনে হেরোইন তৈরি এবং তা নিখুঁতভাবে প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হতো। সোমবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফরাক্কা থানার পুলিশ সেখানে আচমকা হানা দেয়। ল্যাব থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন, নগদ কয়েক লক্ষ টাকা এবং মাদক তৈরির আধুনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে বিহারের সমস্তিপুরের রহিত সিং, মালদহের কালিয়াচকের ইশা হক ও মহম্মদ আসলাম এবং বিহারের যোগবানির বাসিন্দা চার মহিলা— রাজিয়া খাতুন, জেহিনা খাতুন, সাকিনা খাতুন ও মাদিনা খাতুন।
রুট বদলের কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
তদন্তকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কড়া পাহারা থাকার কারণে বাইরে থেকে সরাসরি হেরোইন নিয়ে আসা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রতিবন্ধকতা এড়াতেই পাচারকারীরা ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। বাইরে থেকে শুধু কাঁচামাল ও রাসায়নিক এনে স্থানীয় স্তরে ল্যাব তৈরি করে মাদক উৎপাদন করা হচ্ছে, যা অপরাধ জগতের এক নতুন ও বিপজ্জনক প্রবণতা। ফরাক্কার মতো কৌশলগত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করায় প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতেও দ্রুত মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পলাতক মূল চক্রী ইসমাইল শেখের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে এবং ধৃত সাতজনকে পুলিশি হেফাজতে চেয়ে জঙ্গিপুর আদালতে পাঠানো হচ্ছে।