গলা কেটে দিলেও আত্মসমর্পণ নয়! ইডির ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে সরব অভিষেক

গলা কেটে দিলেও আত্মসমর্পণ নয়! ইডির ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে সরব অভিষেক

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় টানা ১১ ঘণ্টা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকাল ১০টা ৫৬ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি এবং রাত ১০টার পর ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে আসেন। দীর্ঘ এই ম্যারাথন জেরা শেষে দৃশ্যতই অবিচলিত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সংস্থা ফের ডাকলে তিনি আবারও হাজিরা দিতে প্রস্তুত।

অতীতে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নাম জড়ানোয় এবং আর্থিক লেনদেনে গরমিলের অভিযোগ ওঠায় এই জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে এই মামলায় অভিষেকের কোনো আইনি রক্ষাকবচ নেই, যার ফলে তদন্তকারী আধিকারিকদের এই ম্যারাথন জেরা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি দাবি করেন, তদন্তে তিনি প্রথম থেকেই সহযোগিতা করে আসছেন এবং এযাবৎকাল প্রায় ১০-১২ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর মতে, বিরোধীরা যাতে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি না পায়, সেই আক্রোশ থেকেই এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। দল ভাঙানো এবং বিধায়ক-সাংসদদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, গলা কেটে দিলেও তিনি বা তাঁর দল আত্মসমর্পণ করার পাত্র নন এবং এই লড়াই চলবে।

তদন্তের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

নিয়োগ দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরুপের এই তদন্ত রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ আরও তীব্রতর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিকে ইডির এই ম্যারাথন জেরা, অন্যদিকে বিধানসভার সই জাল কাণ্ড এবং ডিজে মন্তব্য মামলায় সিআইডির পরপর হাজিরা—সব মিলিয়ে অভিষেকের ওপর আইনি চাপ ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি কেবল আইনি লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *